নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্রেফ বিস্কুট ‘চোর’ সন্দেহে মারের ফলে গুরুতর আহত হল এক কিশোর। অভিযুক্ত স্থানীয় এক মুদি দোকানি। অভিযোগ, কাঠ দিয়ে ওই কিশোরকে বেধড়ক মারধর করেছে ওই দোকানদার। মারের চোটে নাক ফেটেছে তার। পাঁশকুড়ায় চিপস চুরির অপবাদে এক কিশোরের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে রাজ্য। সেই আবহে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাবড়ায়। পুলিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার সংহতি রেল স্টেশন লাগোয়া এলাকায় মুদি দোকান রয়েছে শচীন্দ্রনাথ দাসের। সোমবার বিকেলে পাড়ার একদল কিশোর ওই দোকানের সামনে বসেছিল। তাদেরই একজন দোকান থেকে একটি বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে পালিয়ে যায়। তার বন্ধুরাও তারপর একে একে সেখান থেকে চলে যায়। ১২ বছরের এক কিশোর তখন ওই দোকানের সামনের বেঞ্চে বসেছিল। সে কিছু বোঝার আগেই ওই দোকানি তার উপর চোটপাট করতে শুরু করে। ভর্ৎসনাও করে। বারে বারে ওই কিশোর ‘বিস্কুট চুরি করিনি’ বললেও তাকে ছাড়েনি ওই মুদি দোকানি। উল্টে দেড় ঘণ্টা দোকানে আটকে রাখে এবং চ্যালাকাঠ দিয়ে মারধর করে। সেই মারধরেই নাক ফেটে রক্তারক্তি হয়। ওই অবস্থায় দোকানের মধ্যেই বেশ কিছুক্ষণ পড়ে ছিল ওই কিশোর। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাউগাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত দোকানি শচীন্দ্রনাথকে ধরতে পুলিস কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী, টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার জন্য বাউগাছি ফাঁড়ির পুলিস ‘চাপ’ দেয় বলেও অভিযোগ। তবে, সেই চাপ কাটিয়ে রাতেই হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান আক্রান্তের পরিবারের সদসরা।
আক্রান্ত কিশোরের দাবি, ‘আমি দোকানে বসেছিলাম। সন্দেহের বশে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি বিস্কুট চুরি করিনি। কাঠ দিয়ে মাথায় মারায় নাক ফেটে গিয়েছে। হাতে-পায়ে খুব ব্যথা। কিশোরের বাবা বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে কেউ বিস্কুটের প্যাকেট নিয়েছে কি না, বলতে পারব না। আমার ছেলে দোকানের সামনেই বসেছিল। ওকে বিস্কুট চোর সন্দেহে মারধর করা হয়েছে। সোমবার ছেলেকে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা বেজে যায়। তারপর থানায় যাওয়ার সময় বাউগাছি ফাঁড়ির অফিসার আমাদের পথ আটকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু আমরা তাঁর কথা না শুনে হাবড়া থানায় অভিযোগ করেছি। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি। মুদি দোকানি শচীন্দ্রনাথ বলেন, ‘ওই দিন বিকেলে ছ’জন এসেছিল। তাদের মধ্যে তিনজন গেঞ্জির ভিতরে বিস্কুটের প্যাকেট নিয়ে পালায়। বাকি তিনজনের মধ্যে দু’জনকে ধরতে পেরেছিলাম। তাদের কাঠ দেখিয়ে যখন শাসন করছিলাম, তখন একজন পালাতে গেলে তার নাকে কাঠ লেগে ফেটে যায়। মারধর করিনি।’