সংবাদদাতা, কালনা: প্রায় দু’দশক ধরে নিজের বাড়িতে বাসন্তীপুজো করে আসছেন পূর্বস্থলী দক্ষিণের বিধায়ক তথা বিদ্যানগরের ভূমিপুত্র মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। শনিবার অষ্টমীর দিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্বপনবাবু পুজোয় মেতে ওঠেন। সাংসদ শর্মিলা সরকার সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দলের কর্মীদের জন্য আয়োজিত এই পুজোর রয়েছে এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
১৯৯৮ সালে তৃণমূলের জন্ম হয়। সেবছর পঞ্চায়েত ভোটে স্বপনবাবুর লড়াকু মানসিকতায় এই নবগঠিত দল শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত দখল করে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই হারের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ২০০৬সালে ১২জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয় সিপিএম। ওই বছর সেপ্টেম্বরে পরিমল দেবনাথ, মুকুন্দ দেবনাথ, গৌতম দে, বাপি মল্লিক, চাঁদু সিংহ, পিনাকী সাহা, সজল দাস, উজ্বল দাস, নারায়ণ দেবনাথ, স্বপন ভৌমিক সহ ১২জন তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার হন। সেবছর তাঁদের দুর্গাপুজো জেলেই কাটে। স্বপনবাবু পুজোর সময় জেলে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সঙ্গে পুজো কাটাতে না পারার বেদনা তাঁকে জানান। স্বপনবাবু আশ্বাস দেন, মামলা টিকবে না। তিনি ওই কর্মীদের বলেন, ‘তোরা জেল থেকে ছাড়া পেলেই আমি দুর্গাপুজো করে তোদের আনন্দ ফিরিয়ে দেব।’
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ১২জন জেল থেকে ছাড়া পান। স্বপনবাবু ঠিক করেন, চৈত্র মাসে বাসন্তীপুজো করে কর্মীদের দেওয়া কথা রাখবেন। তাঁর সহধর্মিণী পেশায় শিক্ষিকা নীলিমা দেবনাথের সহযোগিতায় তিনি বাসন্তীপুজো আয়োজন করেন। ওই ১২জন কর্মী ছাড়াও শাসকদলের বহু কর্মী ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ান। সেই থেকে প্রতিবছর বাসন্তীপুজোর পাশাপাশি অষ্টমীর দিন দলের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের খাওয়াতে ভোলেন না মন্ত্রী। ওই ১২জনের মধ্যে কয়েকজন প্রয়াত হয়েছেন। বাকিরা যত কাজই থাকুক, স্বপনবাবুর বাড়িতে বাসন্তীপুজোয় হাজির হন। স্বপনবাবু তাঁদের নতুন বস্ত্রও দেন।
পরিমল দেবনাথ বলেন, পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়ায় সিপিএম মিথ্যা মামলায় আমাদের ১২জনকে জেলে ঢুকিয়েছিল। সেসময় স্বপনদা অভিভাবকের মতো খোঁজখবর নিতেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখনও জেলার নানা প্রান্তে দলীয় কর্মীদের বিপদে-আপদে ছুটে যান।
স্বপনবাবু বলেন, তৃণমূলের জন্মলগ্নে সিপিএমের সঙ্গে লড়াইয়ে কিছু একনিষ্ঠ কর্মীকে পেয়েছি। তাঁরা সিপিএমের হার্মাদদের অত্যাচার সহ্য করেও শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত ছিনিয়ে এনেছেন। হারের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সিপিএম মিথ্যা মামলায় কয়েকজন কর্মীকে জেলে ঢুকিয়েছিল। ওরা ছাড়া পেতেই বাসন্তীপুজো করে দুর্গাপুজোর আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। সেসময় হার্মাদদের অত্যাচার সহ্য করে কর্মীরা একের পর এক জয় ছিনিয়ে এনেছে। এজন্য আমি কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ।