Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাগি শিক্ষাকর্মীর তালিকায় মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর ভাই

এসএসসি দাগি শিক্ষাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করতেই শোরগোল মেদিনীপুরে। ওই তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর ভাই খোকন মাহাতর।

দাগি শিক্ষাকর্মীর তালিকায় মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর ভাই
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এসএসসি দাগি শিক্ষাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করতেই শোরগোল মেদিনীপুরে। ওই তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর ভাই খোকন মাহাতর। শ্রীকান্ত মাহাত আইনে দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে মন্ত্রীর ভাইয়ের চাকরি যাওয়ায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি বছরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। গোটা প্যানেল বাদ দেওয়ায় রাজ্যজুড়ে আলোড়ন পড়ে। পরে আদালতের নির্দেশে ‘টেন্টেড’ অর্থাৎ দাগি শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। এবার টেন্টেড শিক্ষাকর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার জনের নাম রয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতরা দুই ভাই। মন্ত্রীর ভাই খোকনবাবু ঝাড়গ্রামের বৈতা শ্রীগোপাল হাই স্কুলের অশিক্ষককর্মী ছিলেন।  জানা গিয়েছে, এই চাকরি পাওয়ার আগে গ্রাম পঞ্চায়েতেও কাজ করেছেন খোকনবাবু। পরিবারের দাবি, ছোট বয়স থেকেই তিনি পড়াশোনায়  ভালো ছিলেন। কয়েক মাস আগে চাকরি বাতিলের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। কিন্তু সেই সময়ও শ্রীকান্তবাবু দাবি করেছিলেন, ভাইয়ের চাকরি নিয়ম মেনেই হয়েছে। কোনও জালিয়াতি হয়নি। এদিন মন্ত্রী বলেন, চাকরি বাতিলের লিস্টে ভাইয়ের নাম আছে। কিন্তু আমরা আদালতে যাব। তবে আমি এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলিনি। আমার ভাই উচ্চশিক্ষিত। আগেও অনেক জায়গায় চাকরি করেছে। এদিন খোকনবাবু বলেন, আমার কাছে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র আছে। আদালতে যাব। সমস্ত তথ্য রয়েছে। 
এক তৃণমূল নেতার কথায়, অনেক তৃণমূল নেতার কাছের মানুষ চাকরি পেয়েছেন। এতে দলেরই বদনাম হচ্ছে। সাধারণ মানুষ একেবারে ভালো চোখে দেখছেন না। দলের প্রথম সারির নেতারা যদি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে নিচুতলার কর্মীদের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে।  সমস্ত দিক বিবেচনা করে এই ধরনের নেতাদের কড়া বার্তা দিক দল। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল দলের বেশিরভাগ নেতাই দুর্নীতিগ্রস্ত। একজন মন্ত্রীর ভাই কীভাবে চাকরি পেয়েছে, তা সবাই জানে। অপরদিকে, শালবনীতে প্রচুর সংখ্যায় যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বেকার হয়ে রয়েছেন। তাঁদের জন্য ভাবার কেউ নেই। তৃণমূল সরকারের মুখ ও মুখোশ আলাদা। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ