নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের(পিএইচই) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে শনিবার বাঁকুড়ায় বৈঠক করলেন মন্ত্রী পুলক রায়। এদিন দুপুরে বাঁকুড়া সার্কিট হাউসে মন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন। অবিলম্বে অর্ধসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে বৈঠকে মন্ত্রী নির্দেশ দেন বলে পিএইচই সূত্রে জানা গিয়েছে।
কর্তব্যে গাফিলতির কারণে তালডাংরা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিককে এদিন ভর্ৎসনা করে কারণ দর্শাতে বলা হয়। বৈঠকে বাঁকুড়া পুরসভার তরফে চাহিদামতো জল না পাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো হয়। সোনামুখী পুরসভার তরফেও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলা হয় বৈঠকে। এদিন বৈঠকে সাংসদ, বিধায়কদের কোটা থেকে আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে পানীয় জলের ট্যাঙ্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, আমার এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে পিএইচইকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। দু’-একদিনের মধ্যে রানিবাঁধে সাত ও সাঁতুড়িতে ছ’টি ট্যাঙ্কার পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। কেন্দ্র আমাদের বঞ্চনা করছে। ফলে অর্থের অভাবে অনেক কাজ অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। পাইপ পাতা হয়ে গিয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত জল চালু করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। পাইপের অভাব রয়েছে এমন এলাকায় বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়া না গেলেও অন্তত পাড়ায় একটি করে ট্যাপকল বসানোর নির্দেশও তিনি দেন।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে বাঁকুড়া পুরসভায় আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। তাতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। সেসব আমরা মন্ত্রীকে জানিয়েছি। পিএইচইর এক আধিকারিক বলেন, জেলায় বর্তমানে যেসব বড় প্রকল্প চলছে তারমধ্যে মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটির কাজ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। বহু প্রকল্প টাকার অভাবে আমরা শেষ করতে পারছি না। সেসব মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে তালডাংরার ওই আধিকারিককে ধমক খেতে হয়েছে।
মন্ত্রী তাঁর উপর রেগে গিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও পরে মন্ত্রীকে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভা ও সদর মহকুমা প্রশাসনের তরফে শহরে জল সরবরাহ নিয়ে নানা অভিযোগ করা হয়। কোনও কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হলে, দু’দিন আগে থেকে জানানোর জন্য পুরসভার তরফে বলা হয়েছে। যাতে তারা মাইকিং করে বাসিন্দাদের বিষয়টি নিয়ে অবগত করতে পারেন, তারজন্যই ওই অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। এদিন সোনামুখী পুরসভার তরফেও একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার জন্য মন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ, রবিবার সেখান আধিকারিকরা যেতে পারেন।