নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এসআইআর আতঙ্কে মুর্শিদাবাদ জেলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রবিবার দুপুরে বহরমপুরের গান্ধী কলোনিতে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এসআইআর আতঙ্কে মৃত তারক সাহার স্ত্রীর হাত ধরে মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই আছি। একদম কাঁদবেন না। মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে আছে। সমগ্র দল আপনাদের সঙ্গে আছে।
এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার, মহিলা সভানেত্রী ফতেমা বেগম, বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডল প্রমুখ। বহরমপুরে মহিলা তৃণমূলের কর্মিসভায় অংশ নেন সভানেত্রী। সেখানে হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী, শাওনি সিংহ রায় প্রমুখ। এরপর তিনি খড়গ্রামে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভায় যোগ দেন। নগর কলেজে ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সাংসদ খলিলুর রহমান, বিধায়ক আশিস মার্জিত, কানাইচন্দ্র মণ্ডল প্রমুখ।
এদিন মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পাশাপশি আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে। শাসকদলের তরফ থেকে মৃতের পরিবারের সদস্যের হাতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এই অসহায় পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দুষেছেন মন্ত্রী।
চন্দ্রিমা বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে তারকবাবু আতঙ্কিত হয়েছিলেন। ভাবছিলেন, এখান থেকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে। তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। কী মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছে। এই আতঙ্ক ছড়ানোর কোনও মানেই হয় না। সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। মুখ্যমন্ত্রী, আমাদের সাধারণ সম্পাদক তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছেন। আমাদের গোটা দল আছে। তিনি আরও বলেছেন, অনেক ধরনের প্রচার হচ্ছে। আমরা দলের তরফ থেকে এখানে এসেছি। দলের পক্ষ থেকে যা যা করার সেটা করা হয়েছে এবং করব। নির্বাচন কমিশনের জন্যই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তা থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য কোনও রকম প্রচার আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
অপূর্ববাবু বলেন, এসআইআর আতঙ্কে যাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন, প্রথম থেকে তাঁদের পরিবারের পাশে আমরা আছি। এদিন মৃতের স্ত্রীর হাতে দলীয়ভাবে তিন লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে এসেছি। দলীয়ভাবে তাঁদের সব রকমভাবে সাহায্য করা হয়েছে। পরিবারটির যাতে আগামীতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা আমরা দেখব।
কর্মিসভায় হাজির হয়ে চন্দ্রিমা বলেন, মহিলাদের শক্তির মূল, দিদির তৈরি তৃণমূল। বাংলার ভোট রক্ষার লড়াইয়ের মহিলারা এগিয়ে আসছে। এসআইআর পর্বে আমরা সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।