Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতি ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধলেন মন্ত্রী বীরবাহা

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।

হাতি ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধলেন মন্ত্রী বীরবাহা
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। কেন্দ্র বনদপ্তরের বরাদ্দ আটকে রাখার কারণে হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। হাতিপ্রবণ বেলিয়াতোড়ে দলের বিজয়া সম্মিলনিতে যোগ দিয়ে বনমন্ত্রী ওই দাবি করেন। কেন্দ্র বঞ্চনা না করলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ত বলেও মন্ত্রী জানান। বিজেপির পাশাপাশি ময়ূরঝরনা প্রকল্প নিয়ে বামেদেরও বনমন্ত্রী কটাক্ষ করেছেন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ এলাকায় ৬৬টি হাতির পাল ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। এছাড়া বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগ ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানায় ৩০টি হাতির একটি দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে প্রায় ১০০টি হাতির একযোগে হামলা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বাঁকুড়াবাসীর নাজেহাল অবস্থা। খাতড়া মহকুমা থেকে হাতিগুলি পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে গেলেও ফের ফিরে আসতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। কারণ গত ছ’মাসে একটি রেসিডেন্সিয়াল হাতি বার দশেক সীমানা পার হয়ে বাঁকুড়ায় ঢুকেছিল। বিধানসভা ভোটের আগে বাঁকুড়ায় হাতি সমস্যা নিয়ে তৃণমূল কিছুটা বিপাকে পড়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। 
এব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বনমন্ত্রী বলেন, হাতি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বনদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকরা দিনরাত ডিউটি করেন। দিনদিন হাতি ও মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উভয়ের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের তরফে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য প্রকল্পের মতো বনদপ্তরের বরাদ্দও বন্ধ করে দিয়েছে। তার ফলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। ময়ূরঝরনা বামফ্রন্ট আমলের প্রকল্প ছিল। বামেরা শূন্য হয়ে গিয়েছে। বামেরা কীভাবে পরিকল্পনা করেছিল, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা বড়জোড়ার মতো বিকল্প হিসেবে কিছু জায়গায় হাতির পাল রাখার ব্যবস্থা করছি। ওই কাজ সম্পূর্ণ হলে অনেকাংশে সমস্যার সমাধান হবে। 
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার বলেন, বনমন্ত্রী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। কেন্দ্রীয় সরকার বন আইন মোতাবেক যাবতীয় কাজ করে চলেছে। এরাজ্যে মূলবাসীদের জন্য বরাদ্দ পাট্টা নিয়ে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি করা হয়। আদিবাসীদের জমি অন্যেরা জোর করে দখল করছে অথবা কিনে নিচ্ছে। বনমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে অযথা দোষারোপ না করে সেদিকে নজর দিলে ভালো হয়। 
সিপিএমের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরী বলেন, বাম আমলেও বাঁকুড়ায় হাতির যাতায়াত ছিল। ক্ষয়ক্ষতি কম করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার যৌথ বন সুরক্ষা কমিটি গড়েছিল। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বনদপ্তর নিয়মিত বৈঠক করত। এখন আর সেসব হয় না। কাঠ মাফিয়ারা জঙ্গল কেটে সাফ করে দিয়েছে। ফলে হাতি প্রায়ই লোকালয়, ফসলের ক্ষেতে হামলা চালাচ্ছে। ময়ূরঝরনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি এই সরকার। সেই কারণেই ময়ূরঝর্ণা প্রকল্প নিয়ে বনমন্ত্রী এসব আজগুবি কথা বলছেন। শূন্য হয়ে যাওয়া বামফ্রন্টকে নিয়ে তৃণমূলের এত মাথাব্যথা কেন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ