নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পেশায় তিনি মুদি দোকানদার। কিন্তু নেশায় প্রতিমা শিল্পী। নেশার টানেই গড়েন মিনি দুর্গা। সেই প্রতিমার বরাত আসে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পেশায় তিনি মুদি দোকানদার। কিন্তু নেশায় প্রতিমা শিল্পী। নেশার টানেই গড়েন মিনি দুর্গা। সেই প্রতিমার বরাত আসে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও।
জলপাইগুড়ির দেবাশিস ঝা। বয়স ৫৫। ছোটবেলা থেকেই দুর্গা প্রতিমা গড়েন। আজও সেই উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। ছাড়তে পারেননি মূর্তি গড়ার নেশা। জলপাইগুড়ির খড়িয়া পঞ্চায়েতের রাখালদেবী এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস। পরিবারের কেউ কোনওদিন প্রতিমা শিল্পী ছিলেন না। কিন্তু ছোট থেকেই মূর্তি গড়ার প্রতি ঝোঁক দেবাশিসের। কাদামাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতেই মূর্তি গড়ার কাজ শুরু। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এখন তিনি মিনি দুর্গার শিল্পী হিসেবে জেলায় পরিচিত মুখ।
কখনও ৫ ইঞ্চির মাটির দুর্গা বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন দেবাশিস। কখনও আবার গড়েছেন ১০ ইঞ্চির দুর্গা। তাঁর তৈরি প্রতিমা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি গিয়েছে অসম, রাজস্থান এমনকী নেপালে।
এবছর চারটি মিনি দুর্গা বানিয়েছেন দেবাশিস। একটি আট ইঞ্চির। বাকি তিনটি ৬ ইঞ্চির, ৮ ইঞ্চির ও ১০ ইঞ্চির। একটি প্রতিমা ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। জলপাইগুড়ির কদমতলার একটি পুজো কমিটি ওই প্রতিমা নিয়েছেন। তাঁর আশা, এবারও ভিনরাজ্য কিংবা বিদেশ থেকে দুর্গার বায়না আসবে।
স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে সংসার দেবাশিসবাবুর। ছেলে আইটিআই পড়ছেন। স্ত্রী বেবি ঝা প্রতিমা তৈরির কাজে সাহায্য করেন। বাড়িতেই একটা ছোট মুদির দোকান। মাঝেমধ্যে পুরোহিতের কাজও করেন। বাকি সময়টা মূর্তি তৈরিতে বুঁদ হয়ে থাকেন ওই প্রৌঢ়।
শুরুটা হয়েছিল কীভাবে?
দেবাশিসের কথায়, ‘তখন তিনি চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। হঠাৎ শখ জাগে মূর্তি বানানোর। পালপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দেখতাম, কীভাবে মূর্তি তৈরি করেন তাঁরা। তারপর নিজেই বাড়ি ফিরে কাদামাটি নিয়ে শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা দাঁড়ায় প্রতিমার মুখ নিয়ে। কোনও প্রতিমা শিল্পী ছাঁচ দিতে চাননি। অনেক ঘুরে এক প্রবীণ শিল্পী প্রতিমার মুখের একটা পুরনো ছাঁচ দেন। সেটা বালিশের পাশে নিয়ে ঘুমোতাম। সারারক্ষণ দেখতাম আর ভাবতাম, কীভাবে প্রতিমার মুখ বানাতে হয়।’
জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কমার্স কলেজে পড়াশোনা করেছেন দেবাশিস। মনপ্রাণজুড়ে প্রতিমা তৈরির নেশা থাকলেও এটা পেশা করতে পারেননি। খুলতে হয়েছে মুদি দোকান। তাঁর কথায়, ‘প্রথমে বড় প্রতিমা বানিয়ে বাড়িতে পুজো করতাম। কিন্তু তিলে তিলে গড়া সেই প্রতিমা যখন বিসর্জন দিতে হল, তখন কান্না পেয়ে যেত। তাই মিনি প্রতিমা বানানো শুরু করি। নিজের হাতেই খুদে দুর্গার সাজ বানাই।’