Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খনি কর্মীর মেয়ের ভেনিস জয়, অনুপর্ণাকে মাংস-ভাত খাওয়ানোর অপেক্ষায় বসে মা

মেয়ে ফিল্ম বানাতে চায় শুনে বাবা রেগে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই কি সত্যজিৎ রায় হতে পারবি?’ সত্যজিৎ রায় হতে না পারলেও তাঁরই মতো নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির জন্য আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছে সেই মেয়ে।

খনি কর্মীর মেয়ের ভেনিস জয়, অনুপর্ণাকে মাংস-ভাত খাওয়ানোর অপেক্ষায় বসে মা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তিওয়ারি, আসানসোল: মেয়ে ফিল্ম বানাতে চায় শুনে বাবা রেগে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই কি সত্যজিৎ রায় হতে পারবি?’ সত্যজিৎ রায় হতে না পারলেও তাঁরই মতো নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির জন্য আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছে সেই মেয়ে। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ওরিজিনত্তি’ বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন। তিনি অনুপর্ণা রায়। এই ক’ দিনে নামটার সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁর ছবি ‘সংস অব দ্য ফরগটেন ট্রিজ’-এর জন্য ভেনিসে সেরা পরিচালকের পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠেছিলেন একখানি লালপাড় সাদা শাড়ি পরে। ওই শাড়িটার মতোই তাঁর জন্মও খুব সাধারণ এক পরিবারে। বাবা কয়লা খনিতে কাজ করতেন। পুরুলিয়ায় জন্ম হলেও বাবার কাজের সূত্রে পরে চলে আসেন কুলটিতে। সেখানেই পড়াশোনা। তবে পড়াশোনায় কখনওই আহামরি ছিলেন না। সিনেমা বানানোই ছিল জীবনের লক্ষ্য। মেয়ের সেই লক্ষ্যপূরণের দিন কুলটির ফ্ল্যাটে ব্রহ্মানন্দ রায় ও মনীষা রায়ের চোখে জল। তাঁরা মেয়ের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। 

Advertisement

কুলটি কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করে নয়ডায় মাস কমিউনিকেশন পড়েছেন অনুপর্ণা। পাশ করেন এমবিএও। নয়ডাতেই নামী আইটি সংস্থায় চাকরিও পান। কিন্তু মেয়ের মন পড়ে সত্যজিৎ রায়, ঋতিক ঘটকের দুনিয়ায়। একদিন মোটা মা‌ই঩নের চাকরি ছেড়ে মায়ানগরী মুম্বইয়ে পাড়ি জমান। মেয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মধ্যবিত্ত বাবা-মা। মুম্বইয়ে ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে আরও দুই মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। সেখানে কাজ শিখে চলে এলেন পুরুলিয়ায়। জীবনের প্রথম সিনেমা বানাতে। সেই ছবিটি ছিল স্বল্পদৈর্ঘ্যের। পরের ছবিতেই বাজিমাত। সেই সিনেমা তৈরির অভিজ্ঞতা ‘বর্তমান’-কে শুনিয়েছেন অনুপর্ণা। ভেনিস থেকে হোয়াটাসঅ্যাপ কলে বললেন, মুম্বইয়ের যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকি সেখানে সিনেমার শ্যুটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাড়িওয়ালা জানতে পারলেই বাড়িছাড়া হতে হবে। আর মুম্বইয়ে থাকার জায়গা পাওয়া খুবই কষ্টকর। কিন্তু সেই ঝুঁকি নিয়েও গোপনে বাড়িতেই ছবির শ্যুটিং শেষ করি। তখনও তো জানি না যে, এই ছবিই আমাকে ভেনিসে সেরা পরিচালকের সম্মান এনে দেবে।  
অনুপর্ণার আদিবাড়ি পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার নারায়ণপুরে। এখন তাঁরা কুলটির বাসিন্দা। কুলটির কলেজ রোডে তাঁদের ফ্ল্যাটে উৎসবের আমেজ। মনীষা রায় বললেন, মেয়ে খাসির মাংসের ঝোল আর সাদা ভাত খেতে ভালোবাসে। মুম্বইয়ে ফিরে কুলটিতে আসবে বলেছে। তখন মাংস-ভাত খাওয়াব। বাবা ব্রহ্মানন্দ রায় বলেন, সত্যিই আজ আমাদের বড় গর্বের দিন। বাবা হয়ে মেয়ের প্রতিভা বুঝতে পারিনি। যদিও অনুপর্ণার দাবি, বাবা-মায়ের সাহায্য ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব ছিল না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ