নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় পুলিশ লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। রবিবার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। শুক্রবার ও শনিবার অশান্তির ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের মধ্যে কংগ্রেস ও মিমের নেতা-কর্মীরা আছে। উসকানি ও জনতাকে ক্ষেপিয়ে অশান্তি পাকানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই অশান্তির পিছনে যে রাজনৈতিক মদত রয়েছে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তার উপযুক্ত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি আমরা প্রথম থেকেই জানিয়েছি। তবে বেলডাঙায় পরিকল্পিত অশান্তি করেছে বিজেপির ‘এজেন্টরা’।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে বেলডাঙায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের এই পরিণতি আমরা কেউ চাই না। তারা যাতে মার না খায় সেই দাবি প্রথম থেকে করা হচ্ছে। এদিকে পুলিশ এখন আমাদের লোকজনকে পাকড়াও করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল মতিউর রহমান, টফি মোল্লা, আফরাজ শেখ, হাদিসুল হক, মিলন শেখ, রিয়াজুল হক, হুদায়াল্লিম মোল্লা, মফিজুল শেখ, নজিবুর রহমান, আনোয়ার শেখ, ওয়াশিম শেখ, সাদিকুল শেখ সহ অন্যান্যরা। এবমধ্যে বেলডাঙা-১ ব্লকের মিমের সভাপতি মতিউর রহমান। তাকেই অশান্তি পাকানোর মূলচক্রী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতেই স্থানীয় বডুয়া মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, মারধর ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক নিগ্রহের পিছনেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
অপরদিকে, টফি মোল্লা এলাকায় কংগ্রেস কর্মী বলেই পরিচিত। বেলডাঙায় অশান্তি ছড়াচ্ছে বলে শুক্রবারই অধীর চৌধুরী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। অথচ তাঁর দলের সক্রিয় কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন অধীরবাবু। সম্প্রতি এই টফি মোল্লার সঙ্গে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবিরেরও একাধিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে। ফলে কার নির্দেশে টফি মানুষকে উস্কানি দিচ্ছিল এবং এলাকায় অশান্তির পরিকল্পনা করছিল, তার খোঁজ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ বলেন, যে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আটজনের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। তাদের মধ্যে মতিউর ও টফি আছে। ধৃতদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। দু’জনের দু’টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসূত্র আছে বলেই জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে মিম নেতা মতিউর মারধর ও ভাঙচুর করছে। তা দেখেই মতিউরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে টফি পিছন থেকে প্রথম দিন উস্কানি দিচ্ছিল। এরপর শনিবার তাকে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে উস্কানি দিতে দেখা যায়। পুলিশ তখনই তাকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার সকাল থেকে ফের ছন্দে ফিরেছে বেলডাঙা। অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে দোকানপাট খুলেছে, বসেছে বাজার। এদিন সকাল থেকে ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়েছে। শিয়ালদহ থেকে লালগোলায় পরিষেবা শুরু হয়েছে। এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অশান্তির রেশ কাটিয়ে ছন্দে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষের। বিশাল পুলিশ বাহিনী এদিন সকাল থেকে এলাকায় টহল দেয়। পুলিশ সুপারও বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এদিন সকাল থেকে বেলডাঙার বিভিন্ন রাস্তায় টহল দেন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এদিন যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।