Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিয়াজাকি আম চাষ করে লাখপতি ইঞ্জিনিয়ার নিত্যানন্দ

রুখাশুখা বাঁকুড়ার লাল মাটিতে জাপানি আম ফলিয়ে লাখপতি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার চাষি।

মিয়াজাকি আম চাষ করে লাখপতি ইঞ্জিনিয়ার নিত্যানন্দ
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রুখাশুখা বাঁকুড়ার লাল মাটিতে জাপানি আম ফলিয়ে লাখপতি হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার চাষি। গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের পাকতোড় গ্রামের বাসিন্দা নিত্যানন্দ গরাই বাগান চাষিদের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছেন। নিত্যানন্দের বাগানের মিয়াজাকি আম প্রতি পিস পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ওই আম ইতিমধ্যেই পাকতে শুরু করেছে। আট বিঘা জমিতে তৈরি নিত্যানন্দের মিশ্র ফলের বাগানে আম ছাড়া অন্যান্য গাছও রয়েছে। তবে গতবার মিয়াজাকি আম বিক্রি করেই লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছিল। এবারও তাঁর বাগানে ৭০টি মিয়াজাকি আম ফলেছে। ফলে এবারও তা বিক্রি করে লক্ষ্মীলাভের আশায় রয়েছেন তিনি। পাঁচ হাজারি আমের নিরাপত্তায় বাগানে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছেন। 

Advertisement

নিত্যানন্দবাবু বলেন, ২০১৫ সালে দুর্গাপুরের একটি কলেজ থেকে আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করি। কিছুদিন চাকরির জন্য চেষ্টা করি। তারপর ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। করোনার সময় ব্যবসা লাটে ওঠে। সেইসঙ্গে চাকরির আশাও ছেড়ে দিই। তারপর থেকে ফল চাষে মন দিই। বর্তমানে বাগান থেকে মাসে গড়ে এক লক্ষ টাকা আয় হয়। বেকাররা বাগিচা ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। বাগান করতে জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের সাহায্য পাই।  
বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে রয়েছে নিত্যানন্দের বাগান। কংক্রিটের পিলার ও তার দিয়ে বাগান ঘেরা আছে। তাঁর বাগানে মোট ১২৫টি প্রজাতির আম গাছ রয়েছে। তারমধ্যে এবার ৫৫টি প্রজাতির গাছে আম ধরেছে। আম ছাড়াও বাগানে একাধিক প্রজাতির জাম, পেয়ারা, কাঁঠাল, আতা, মৌসম্বি, নাসপাতি, জামরুল, আপেল, মাল্টা, ড্রাগন ফ্রুট সহ অন্যান্য ফলের গাছ রয়েছে। বাগানে থাকা ভিয়েতনামি কাঁঠাল গাছে সারা বছর ফলন হয়। তবে ফলের ভিড়ে মিয়াজাকি আম নিয়েই চর্চা বেশি। আম বাংলার সেরা ফল। নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদের নানা প্রজাতির আম রাজা-মহারাজাদের পাতে পড়ত। তবে টুকটুকে লাল মিয়াজাকির আগমন হাল আমলে।  
নিত্যানন্দ বলেন, চার বছর আগে জাপান থেকে মিয়াজাকি প্রজাতির দু’টি কলমের চারা আনিয়েছিলাম। দু’টি চারার দাম পড়েছিল ৪৫ হাজার টাকা। বছরভর গাছ দু’টির পরিচর্যা করা হয়। গতবার থেকে মিয়াজাকি আম ফলতে শুরু করেছে। তবে বাড়িতে খাওয়ার জন্য মিয়াজাকি সচরাচর কেউ কেনেন না। মূলত উপহার দেওয়ার জন্য ওই আম বড় ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কিনে নিয়ে যান। ভিন জেলা থেকেও আম পাঠানোর বরাত পাই। আমিও অনেককে মিয়াজাকি আম উপহার দিয়েছি। বর্তমানে গাছে ফল রয়েছে। পাঁচ হাজারি আম যাতে চুরি না হয়ে যায়, তারজন্য বাবা, দাদা ও আমি দিনরাত নজর রাখছি।  পাকতোড় গ্রামে মিয়াজাকি আমের বাগানে নিত্যানন্দ গড়াই । -নিজস্ব চিত্র          

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ