Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাক ভূখণ্ডের আরও ভিতরে লঞ্চপ্যাড তৈরি করছে জঙ্গিরা, দাবি বিএসএফ শীর্ষ কর্তাদের

অপারেশন সিন্দুরে ভারতের আক্রমণে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের বহু জঙ্গি ‘লঞ্চপ্যাড’।

পাক ভূখণ্ডের আরও ভিতরে লঞ্চপ্যাড তৈরি করছে জঙ্গিরা, দাবি বিএসএফ শীর্ষ কর্তাদের
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরে ভারতের আক্রমণে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের বহু জঙ্গি ‘লঞ্চপ্যাড’। তাই এবার নিজেদের কার্যকলাপের ধরন পাল্টে ফেলছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। পাক ভূখণ্ডের আরও ভিতরে লঞ্চপ্যাড তৈরি করছে তারা। ইতিমধ্যেই ৭২টির বেশি এমন লঞ্চপ্যাড পাকিস্তানের ভিতরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে, পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে ফের একবার জঙ্গিদমন অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিল বিএসএফ। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার অনুমতি দিলেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরও ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বাহিনী। 

Advertisement

বিএসএফের ডিআইজি বিক্রম কুনওয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, জঙ্গিদের ১২টি লঞ্চপ্যাড আপাতত সিয়ালকোট এবং জাফরওয়াল এলাকা থেকে কাজ করছে। যা সীমান্ত থেকে অনেকটাই দূরে। এছাড়া আরও ৬০টি লঞ্চপ্যাডও পাকিস্তানের এখন ‘অ্যাকটিভ’ রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএসএফের অপর ডিআইজি কুলবন্ত রাই শর্মা ও জম্মু ফ্রন্টিয়ারের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
এদিকে, রবিবার ভারতীয় নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি জানান, অপারেশন সিন্দুর এখনও চলছে। এই অভিযানকে এড়িয়ে যাওয়াই পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে ভালো।যে কোনও সময়ে আক্রমণের জন্য নৌসেনা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিএসএফ কর্তারা জানান, ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন বিএসএফ পাকিস্তান সীমান্তবর্তী একাধিক জঙ্গি লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেগুলিকে আরও ভিতরে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা। কিন্তু লঞ্চপ্যাডগুলিতে উপস্থিত জঙ্গিদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। ভারতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর জন্য এই লঞ্চপ্যাডগুলিকে ব্যবহার করা হয়। তবে অপারেশন সিন্দুরের পর সেখানে দুই থেকে তিনটি দলের বেশি জঙ্গিদের সেখানে রাখা হচ্ছে না। কুনওয়ার আরও জানান, আগে জয়েশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তোইবার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি লঞ্চপ্যাড তৈরির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বাছাই করে নিত। কিন্তু সিন্দুরের পর একসঙ্গে মিলে লঞ্চপ্যাড ব্যবহার করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। কারগিল যুদ্ধের পরও জঙ্গিরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল বলে জানিয়েছেন বিএসএফ কর্তারা। এর উদ্দেশ্য একটাই। যতটা সম্ভব ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজর থেকে নিজেদের লুকিয়ে থাকা।
আইজি শশাঙ্ক আনন্দ জানান, সরকার যদি অপারেশন সিন্দুর ফের শুরু করে, তার জন্য বিএসএফ যে কোনও ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘যদি সুযোগ পাই, তাহলে মে মাসের তুলনায় জঙ্গিদের আরও বেশি ক্ষতিসাধন করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ