সংবাদদাতা, লালবাগ: হালকা শীতের আমেজ পড়তেই মুর্শিদাবাদ থানার ঐতিহাসিক মোতিঝিলে পরিযায়ী পাখিরা দল বেঁধে আসতে শুরু করেছে। ঝিল ও সংলগ্ন ডাঙায় ঘাঁটি গেড়েছে হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে আসা শীতের অতিথিরা। পাখিদের হাঁক-ডাকে রীতিমতো সরগরম ঝিল ও সংলগ্ন এলাকা। পাখি দেখতে দিনভর মোতিঝিলে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক থেকে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ। এদিকে পরিযায়ী পাখিদের আগমনের সঙ্গে চোরা শিকারীদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। তবে শীতের অতিথিদের চোরা শিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে ঝিলের চারিদিকে নজরদারি শুরু করেছেন স্থানীরা। শীতের শুরুতেই পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করায় খুশির হাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে খুশির। মুর্শিদাবাদের পুর চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর জানান, বিষয়টি জানি। ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় মানুষ চোরাশিকার নিয়ে কোনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরিযায়ী পাখিদের রক্ষায় কড়া ব্যবস্থা নেবে পুরসভা।
মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নবাবি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন মোতিঝিল মসজিদ। মসজিদের সামনে রয়েছে প্রায় সাড়ে ছ’শো বিঘে জায়গাজুড়ে অশ্বক্ষুরাকৃতি ঝিল। নবাব আলীবর্দি খাঁর বড় জামাই নওয়াজেস খাঁ এই ঝিল খনন করেছিলেন। নবাবি আমলে মোতি অর্থাৎ মুক্তো চাষ হত বলে এটি মোতিঝিল নামেই পরিচিত।
ঝিলটি মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং নতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে অবস্থিত। কয়েক দশক ধরে ঝিলটি পরিচর্চাহীন হয়ে পড়ে ছিল। সংস্কারের অভাব ও অবহেলায় বিশালাকার ঝিল বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। শীতে পরিযায়ী পাখিদের দেখা মিলত না। কোনও বছরে পাখির দল এলেও দু’একদিন বাদেই অন্যত্র চলে যেত।
বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ঝিল সংলগ্ন জমিতে অত্যাধুনিক পার্ক প্রকৃতিতীর্থ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি ঝিলটিরও সংস্কার হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ফিরতেই গত কয়েক বছর ধরে শীতের মরশুমে পরিযায়ী পাখির দল ঝিলে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরে শীতের অতিথিরা খানিকটা আগাম আসতে শুরু করেছে। কখনও ঝিলের জলে, কখনও পাড়ে রোদে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ৭-৮ বছর ধরে পাখি দেখতে কচিকাঁচারা সকাল থেকেই ঝিলের পাড়ে ভিড় জমাচ্ছে।
স্থানীয় যুবক দীপক রবিদাস বলেন, শীতের অতিথিদের নিরাপত্তা প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব। তাই সবাই মিলে শীতভর নজরদারি চালাই। মোতিঝিল পার্কের কর্মী সিরাজুল শেখ বলেন, এইসময় পরিযায়ী পাখিদের টানেই অনেক পর্যটক পার্কে ভিড় জমান।