নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়ে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বাংলায় কথা বলার জন্য অন্য রাজ্যে গ্রেপ্তার হলে ছেড়ে কথা না বলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাঁরা বাইরে রয়েছেন, আমরা কোর্ট কেস করে তাঁদের ছাড়িয়ে এনেছি। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন নদীয়ার পরিযায়ী শ্রমিকরা। সম্প্রতি তাঁদেরা ওড়িশা, ছত্তিশগড়, হরিয়ানার মতো গেরুয়া শাসিত রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। ফের সেইসব রাজ্যে কাজ করতে যেতে তার তাঁদের উচ্ছে নেই। এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা তাঁদের মনে আশা জাগিয়েছে। নদীয়া জেলায় চাপড়া, কালীগঞ্জ, তেহট্ট, থানারপাড়া, নাকাশিপাড়ার বহু পরিযায়ী শ্রমিক হরিয়ানা, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজ করতে যান। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিসি হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। দিনের পর দিন বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল অঘোষিত ডিটেনশন ক্যাম্পে। এমনকী মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে। সেখানকার পুলিস প্রশাসন তাঁদের বিনা পারিশ্রমিকে কাজও করিয়ে নিয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা রেহাই পাননি। আটকে রেখে ম্যারাথন জেরাও করা হয়েছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয় তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র উদ্যোগ নেন তাঁদের ফেরানোর। কালীগঞ্জের প্রায় ৩০ জন, চাপড়ার ১৫ জন এবং থানারপাড়ার ৯ পরিযায়ী শ্রমিককে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। পাশাপাশি অবৈধভাবে আটকে রাখার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার উদ্যোগও নেন সাংসদ।



