Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘শ্রমশ্রী’তে খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা, ঘরে ফেরার আশায় গুনছেন দিন

ঝাড়গ্রাম জেলার ১৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজে গিয়ে ভাষা সন্ত্রাসের শিকারের ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।

‘শ্রমশ্রী’তে খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা, ঘরে ফেরার আশায় গুনছেন দিন
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার ১৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজে গিয়ে ভাষা সন্ত্রাসের শিকারের ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ঘোষণার খবর পৌঁছতেই ঝাড়গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা উচ্ছ্বসিত। অনেকেই ঘরে ফেরার কথা ভাবছেন।

Advertisement

১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার খেটেখাওয়া শ্রমজীবীদের একটি বড় অংশ বিপদে পড়ে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাজের সন্ধানে তাদের ভিনরাজ্যে যেতে হয়। এদিকে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের একের পর এক হেনস্তার খবর সামনে আসতেই তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ির সদস্যরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। বাড়ি ফিরে এসে কাজ মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সংসার চালাতে ভিনরাজ্যে পড়ে থাকা ছাড়া অন্য রাস্তা খোলা ছিল না। পরিযায়ী শ্রমিকদের বক্তব্য, শ্রমশ্রী প্রকল্প এখন বিকল্প রাস্তা খুলে দিয়েছে। বাইরের রাজ্যে কাজ করতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতার দিন শেষ হয়েছে। বাড়ি ফিরলে শ্রমশ্রী প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাবে। সেই সময়ের মধ্যে নতুন কাজ খুঁজে নেওয়া কঠিন হবে না। এছাড়া, বাইরে কাজ করলেও জেলার শ্রমদপ্তর পাশে দাঁড়িয়েছে। কর্মস্থলে কোনওরকম হেনস্তার ঘটনা ঘটলে রাজ্য সরকারের তরফে পাশে থাকার আশ্বাস মিলেছে। বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ী এলাকার বাসিন্দা শুভম মাহাত বলেন, গুজরাতে কাজে গিয়েছিলাম। কিছুদিনের জন্য বাড়ি এসেছি। বাড়ি এসে শ্রমশ্রী প্রকল্পের কথা শুনলাম। প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাড়ি এসে একেবারে অথই জলে পড়ব না। বাইরে থাকার সময় ভাবতাম, কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেলে সংসার চলবে কীভাবে? এই প্রকল্প সেই দুশ্চিন্তা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে। 
জামবনী ব্লকের চিল্কিগড়ের বাসিন্দা পঙ্কজ মাহাত চেন্নাই থেকে ফোনে বলেন, শ্রমশ্রী প্রকল্পের কথা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা ভাবেন জেনে ভালো লাগছে। এবার বরাবরের মতো নিজের রাজ্যে, নিজের জেলায় ফেরার কথা ভাবছি। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরা এলাকার বাসিন্দা দীপক মাহাত বলেন, বাড়ি ফিরলে একবছর অন্তত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরলে সংসার কীভাবে চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতাম। শ্রমশ্রী প্রকল্পের কথা শুনে এখন সেই দুশ্চিন্তা কেটে গিয়েছে।
জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, জেলার বহু মানুষ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে রয়েছেন। বাংলাভাষী হওয়ায় সেখানে তাঁদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্রমশ্রী প্রকল্প পরিযায়ী শ্রমিকদের বিকল্প আর্থিক নিরাপত্তার পথ খুলে দিয়েছে। এই উদ্যোগে পরিযায়ী শ্রমিকরা কিছুটা হলেও আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ