Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবশেষে বাড়ি ফিরলেন বান্দোয়ানে আসার পথে নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক

জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। এক মাস পর বাড়ি ফিরলেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের সেই নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক রমানাথ কর্মকার।

অবশেষে বাড়ি ফিরলেন বান্দোয়ানে আসার পথে নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। এক মাস পর বাড়ি ফিরলেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের সেই নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক রমানাথ কর্মকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি টাটানগর স্টেশনে নামেন। এরপর তিনি ঝাড়খণ্ডের পটমদা‌ থানার সিঁদুরপুর গ্রামের তার দিদির বাড়িতে পৌঁছান। পরে বুধবার বিকালে তিনি বান্দোয়ানের তুলসিডি গ্রামে ফেরেন। বাড়ির ছেলে ঘরে ফিরতেই স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।

Advertisement

বান্দোয়ান থানার গুড়ুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তুলসীডি গ্রামের বাসিন্দা রমানাথ কর্মকার। অভাবের সংসার, বাড়িতে রয়েছে মা-বাবা স্ত্রী সহ পাঁচ সন্তান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাস নাগাদ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে গোয়ায় কাজ করতে যান বছর ৩২ এর রমানাথ কর্মকার। সেখানে মাস দেড়েক কাজ করার পর গত ৩ জুন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গ্রামের এক সঙ্গীর সঙ্গে ওইদিন ট্রেনে চাপেন রমানাথ। এরপর ওই যুবক বাড়ি ফিরে আসলেও রমানাথ বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপরেই পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়ে। রমানাথের কাছে ফোন না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের লোকজন। এক মাস ধরে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গত ২০ জুন জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার পক্ষ থেকে পুরুলিয়া জেলা শাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানো হয় বলে জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো। রমানাথের বৃদ্ধ বাবা মা থেকে শুরু করে তার স্ত্রী সন্তানেরাও চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঘটনার একমাস পর মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেন পরিযায়ী শ্রমিক রমানাথ। তার জেঠতুতো দাদা ভীম কর্মকার বলেন, আমরা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। একমাস ধরে তাঁর কোনও সন্ধান পাচ্ছিলাম না। অবশেষে ভাই বাড়ি ফিরে এসেছে। এতে সবাই খুব খুশি।
 এদিন রমানাথ জানান, ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে বিজয়ওয়াড়া স্টেশনে নামি। তারপর আর ট্রেনে উঠতে পারিনি। ট্রেন ছেড়ে দেয়। পকেটে টাকা ছিল না। সেই সঙ্গে সেখানকার ভাষা বুঝতে পারছিলাম না। তাই বাড়ি ফিরতে পারিনি। এরপর বিজয়ওয়াড়া স্টেশনের সংলগ্ন একটি হোটেলে কাজে যোগ দিই। সেখানে কাজ করে কিছু পয়সা হয়। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য স্টেশনে আসি। সেখানে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয় আসানসোলের এক যুবকের। তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে সুবিধা হয়। তার সঙ্গেই ট্রেনে করে বাড়ি ফিরি। দাদা ভীম কর্মকার জানান, ভাই জানিয়েছে, ঠিকমতো হিন্দি বলতে না পারায় খুবই সমস্যা পড়েছিল। বহু কষ্ট করে বাড়ি ফিরেছে সে। বাড়ি ফিরতেই খুশি বাবা ও মা। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, আমরাও শুনে খুশি হলাম উনি ঘরে ফিরেছেন। তবে দেশজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্য  সরকারের সমন্বয় জরুরি।  বাড়ি ফিরে দিদির সঙ্গে রমানাথ কর্মকার। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ