Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরিয়ানা থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু পরিযায়ীর

হরিয়ানার গুরুগ্রামে পুলিসের ধরপাকড় ও বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তার ভয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালদহের চাঁচল ১ ব্লকের শীতলপুরের মিনসারুল আলি (২৫)।

হরিয়ানা থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু পরিযায়ীর
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: হরিয়ানার গুরুগ্রামে পুলিসের ধরপাকড় ও বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তার ভয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালদহের চাঁচল ১ ব্লকের শীতলপুরের মিনসারুল আলি (২৫)। ঘটনায় জখম হয়েছেন তাঁর স্ত্রী, বাবা মা, ভাই ও টোটো চালক। বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছে তার ছয়মাসের শিশুকন্যা। গুরুগ্রামে পুলিসি নির্যাতনের ভয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে রাত কাটত পরিবারটির। সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক পরিণতি।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে সামসি স্টেশন থেকে ভাড়া করা টোটোয় চেপে বাড়ি ফিরছিলেন মিনসারুল ও তাঁর পরিবার। চাঁচল-সামসি বাইপাস সড়কের বীরস্থলী এলাকায় পিছন থেকে একটি গাড়ি টোটোটিকে ধাক্কা মারে। 
মিনসারুলের দুই পা চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটিতে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রেফার করা হয়। কলকাতা যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
টোটো চালক রেজাউল হক ও জখম চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। মৃতের ভাই সিরাজুল আলি বলেন, সামসি থেকে রিজার্ভ টোটো করে ফিরছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। দাদার দুই পা চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে যায়। 
পরিবারের বড় ছেলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে বাড়ির সদস্যরা। পরিবারের দাবি, হরিয়ানার পুলিস বাঙালি শ্রমিকদের নথি যাচাইয়ের নামে হেনস্তা না করলে মিনসারুলদের এই পরিণতি হতো না।
মিনসারুল দীর্ঘদিন সপরিবারে গুরুগ্রাম জেলার কাদিরপুর এলাকায় থাকতেন। ভাই, বাবার সঙ্গে মিনসারুল সেখানে একটি কোম্পানিতে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মা পরিচারিকার কাজ ও স্ত্রী রাবেনা খাতুন ছ’মাসের শিশুকে নিয়ে ঘরে থাকতেন। বাংলাদেশি সন্দেহে এরাজ্যের পরিযায়ীদের ধরপাকড় শুরু হলে তাঁরাও নির্যাতনের ভয়ে লুকিয়ে থাকতেন।
 মৃতের স্ত্রী রাবেনা বলেন, গুরুগ্রামে পুলিসের ভয়ে রাতে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতাম শিশুকে নিয়ে। প্রাণ হাতে নিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে আর কতদিন চলে? তাই তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম। না ফিরলে হয়তো এই দুর্ঘটনা ঘটত না। ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মিনারা বিবি। তিনি বলেন, সেখানে পুলিস বাঙালিদের হেনন্তা না করলে আমরা আসতাম না। 
পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য সাহাজান আলি। চাঁচল থানার পুলিস জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে গাড়িটির খোঁজ চলছে।
তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, হরিয়ানার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করা হচ্ছে। কেউ ট্রেনে করে, কেউ বেশি টাকায় গাড়ি ভাড়া করে পালিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কেউ আবার দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। চাঁচলের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।  মৃত মিনসারুলের শোকার্ত পরিবার। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ