নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তখনও বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। পূর্ব পাকিস্তানের মাটি ছুঁয়ে শেষবার কৃষ্ণনগর-রানাঘাট-নৈহাটি হয়ে ছুটেছিল উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস। ছয় দশক বাদে ফের সে পথে ট্রেন পেয়ে উচ্ছ্বসিত আমজনতা। শনিবার মধ্যরাতে ডাউন হামসফর এক্সপ্রেসের ফার্স্ট জার্নিতে বিভিন্ন স্টেশনে ছিল ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার ভিড়। তবে আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হল শঙ্কাও। একাধিক জায়গায় স্টপেজ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার ঘুরল অবরোধের হুঁশিয়ারিও।
ভারত এবং পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে একসময় রেল যোগাযোগ ছিল। তখনই এই নৈহাটি-রানাঘাট-কৃষ্ণনগর হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দর্শনা স্টেশন হয়ে চলত উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস। যদিও পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্ম এবং অন্যান্য কারণে বন্ধ হয়ে যায় এই রুটে উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস চলাচল। তার বদলে দার্জিলিং মেল সহ একাধিক ট্রেন চলছে ডানকুনি হয়ে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো এই রুটে এক্সপ্রেস চালানোর দাবি ছিলই। শেষ পর্যন্ত সপ্তাহে একদিন হামসফর এক্সপ্রেস চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ব রেল। শনিবার জলপাইগুড়ি রোড থেকে ছিল শিয়ালদহগামী এই ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রা।
রাত তখন প্রায় ১টা ১৫ মিনিট। কৃষ্ণনগর জংশনে ট্রেন ঢুকতেই পড়ে যায় সেলফির হিড়িক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটাই প্রথম এই রুটের এক্সপ্রেস। আনন্দ-মুহূর্তকে মোবাইলবন্দি করার ভিড় ছিল প্রচুর। রাত প্রায় ২টো নাগাদ হামসফর এক্সপ্রেস ঢোকে রানাঘাটে। কৃষ্ণনগরের থেকে সেখানে ভিড় ছিল দ্বিগুণ। উন্মাদনাও বেশি। জাতীয় পতাকা আর দেশের নামে স্লোগান তুলে বরণ করা হয় হামসফরকে। লোকো পাইলটকে মালা পরিয়ে জানানো হয় শুভেচ্ছা। একই ছবি দেখা গিয়েছে নৈহাটি স্টেশনেও। তবে, আনন্দের এইসব কোলাজের মধ্যেই ক্ষোভের ছবিও ছিল। নৈহাটি-রানাঘাট-কৃষ্ণনগরের পর হামসফরের স্টপেজ একেবারে বহরমপুর কোর্ট। নদীয়া জেলার বিভিন্ন রেলযাত্রীদের সংগঠনের আপত্তি সেখানেই। তাই উদ্বোধনের দিনে কেউ চেয়েছেন বেথুয়াডহরিতে স্টপেজ, তো কেউ চেয়েছেন পলাশীতে। বাদ যায়নি কল্যাণী স্টেশনে স্টপেজের দাবিও। রীতিমতো পাড়ায় পাড়ায় স্টপেজ চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতে থাকে। সেই সঙ্গে রেল অবরোধের ডাকও। তাতে চিন্তা বেড়েছে রেলের। যেমন, সুজয় হাজরা নামে এক রেলযাত্রী বলেন, ‘পলাশী অথবা বেথুয়াডহরি অনেক বড় স্টেশন। তাই এখানেও স্টপেজ দিতে হবে।’ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ার রেলওয়ে গ্রুপে লিখেছেন, ‘লালগোলা শাখার ব্যস্ততম স্টেশন বেথুয়াডহরিতে হামসফর এক্সপ্রেসের স্টপেজ চাই। এই দাবিতে অবরোধ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে চাই।’ অনেক রেলপ্রেমী আবার সাপ্তাহিক ট্রেনটি প্রতিদিন চালানোর দাবিও তুলেছেন। যদিও সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘প্রতিটি স্টেশনে স্টপেজ দিতে গেলে এটি তো লোকাল ট্রেন হয়ে যাবে। সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। অতিরিক্ত স্টপেজ হলে ট্রেনের যে গতি কমবে, তা নিয়েও রেল যাত্রীরা ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখাবেন। তবে যাত্রী কেমন হচ্ছে তার উপরে নির্ভর করছে সপ্তাহের সাত দিন এই ট্রেন চালানো যায় কিনা। সেটি আমাদের নজরে রয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র