Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্যোগ জয় করে থিম উন্মাদনায় ভাসছে মেদিনীপুর-খড়্গপুর, নিরাপত্তা জোরদার

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে উন্মাদনায় ভাসছে মেদিনীপুর ও খড়গপুর শহরের মানুষ। একইসঙ্গে থিমের পুজো করে একে অপরকে টেক্কা দিতে তৈরি পুজো কমিটিগুলি।

দুর্যোগ জয় করে থিম উন্মাদনায় ভাসছে মেদিনীপুর-খড়্গপুর, নিরাপত্তা জোরদার
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে উন্মাদনায় ভাসছে মেদিনীপুর ও খড়গপুর শহরের মানুষ। একইসঙ্গে থিমের পুজো করে একে অপরকে টেক্কা দিতে তৈরি পুজো কমিটিগুলি। কারও থিম রাজস্থান, কেউ তৈরির করেছে সোনার বাংলা। এবছর রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। আকাশে প্রতিনিয়ত দুর্যোগের ঘনঘটা। তার মধ্যেই রাত জেগে, পরিশ্রম করে মণ্ডপ তৈরি করেছেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, চতুর্থী থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। ঝাড়গ্রাম জেলা থেকেও প্রচুর সংখ্যক মানুষ পুজো দেখতে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বার্জ টাউন দুর্গোৎসব কমিটির এ বছরের থিম পুরোনোদের ভুললে চলবে না। অর্থাৎ, রবীন্দ্রনাথ থেকে উত্তম কুমার সহ বিশিষ্টজনদের মণ্ডপে তুলে ধরা হবে। এমনকি, হারিয়ে যেতে বসা রেডিও সহ জিনিস থাকছে মণ্ডপ সজ্জায়। ৭৯ তম বর্ষের এই পুজোয় ঠাকুর তৈরি হচ্ছে হোগলা পাতা দিয়ে। অপরদিকে, ছোটবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিম ‘বহ্নিশিখা’। অর্থাৎ, স্বাধীনতা সংগ্রামে মহিলাদের ভূমিকা তুলে ধরা হবে মণ্ডপ সজ্জার মাধ্যমে। তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক অরুণ চৌধুরী বলেন, রেকর্ড ভিড় হবে। অন্যদিকে, বিধাননগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোর থিম রাজস্থানের অ্যালবার্ট হল। তাঁদের বাজেট প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও রবীন্দ্রনগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির থিম এবার ভাবতে হবে। অর্থাৎ, গঙ্গা নদীকে দূষণ মুক্ত রাখার চিন্তা ভাবনা থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পুজো কমিটির সভাপতি মদনমোহন মাইতি বলেন, মানুষের সামনে সমাজ সচেতনতার বার্তা তুলে ধরার জন্য এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি সর্বজনীন দুর্গাপুজোর কমিটির এবছরের থিম সোনার বাংলা। মূলত বাংলার রূপ তুলে ধরতে চেয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। অপরদিকে, অশোকনগর সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির থিম সৃজনী বাংলা। মূলত বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতি এই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোয় থিমের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই খড়গপুর শহরও। খড়গপুর শহরের অভিযাত্রী ক্লাবের থিম দিল্লির আদলে অক্ষয়ধাম। তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ২১ লক্ষ টাকা। এই পুজোর চারদিন প্রীতিভোজের ব্যবস্থা থাকে। অপরদিকে, সঙ্ঘশ্রী ক্লাব থিমের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতায় গাছ লাগান গাছ বাঁচান বার্তা দিচ্ছে। তাঁদের ৪৭ তম বর্ষের এই পুজোর ৮ লক্ষ টাকা। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে দুঃস্থ মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, বাবুলাইন পুজো কমিটির থিম দীঘা। দীঘার মেইন গেটের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। কমিটির সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, প্রচুর মানুষ আসবেন বলে আশাবাদী। এছাড়াও রথতলা দুর্গা পুজো কমিটির থিম পুরোনো দিনের কলকাতা। পুরোনো দিনের কলকাতার নানা নিদর্শন তুলে ধরে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।  জেলাশাসক খুরশিদআলি কাদরি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে। একজন মানুষও যাতে সমস্যায় না পড়েন সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।  খড়্গপুরে সঙ্ঘশ্রীর প্রতিমা। ছবি: দেবনাথ মাইতি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ