সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করা নেই। কারও আবার আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক নেই। অনেকের দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একই মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। এক সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে মোবাইল নম্বরটি দেওয়া ছিল, এখন আর সেটি নেই। এইরকম নানা সমস্যার জন্য মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের প্রায় তিন হাজার উপভোক্তা সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এঁদের মধ্যে কেউ বার্ধক্যভাতা, কেউ বিধবা ভাতা, আবার কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান। সরকারিভাবে সেই টাকা এসে গেলেও, তাঁরা তা পাচ্ছেন না। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’-তিন মাস ধরে এঁদের ভাতার টাকা আটকে রয়েছে। তাঁরা যাতে ভাতা পান, তার জন্য সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়েছে পুরসভাগুলি।
মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, আমাদের পুর এলাকায় এইরকম প্রায় এক হাজার উপভোক্তা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা তাঁদের তালিকা তৈরি করেছি। পুরসভায় বিশেষ শিবির করে যাতে সমস্যার সমাধান করা যায়, তারজন্য আমরা জেলাশাসককে চিঠি লিখেছি। তাঁরা যাতে খুব দ্রুত ভাতার টাকা পান, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, খড়্গপুর পুরসভায় সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, আমাদের এখানে প্রায় ১২ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় দু’হাজার উপভোক্তা ভাতা পাচ্ছেন না। আমরা পুরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিবির করে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। পুরসভার পক্ষে সকলকে সমস্তরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। রবিবার চেয়ারপার্সনের নিজের ওয়ার্ডে এই শিবির হয়। যদিও অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল অফিসে শিবির করা হচ্ছে। চেয়ারপার্সন অবশ্য বলেন, সেটি কাউন্সিলারেরও অফিস। সেখানে যাঁরা আসতে চাইবেন না, তাঁদের জন্য স্থানীয় হেল্থ সেন্টারেও ব্যবস্থা করা হয়েছে।পুরসভার কর্মীরা এদিন উপভোক্তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, পুরসভার তরফে যেগুলি সমাধান করা সম্ভব, তা তৎক্ষণাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ব্যাঙ্কে গিয়ে সমাধান করতে হবে, তাঁদের সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি কাউন্সিলার অনুশ্রী বেহেরা বলেন, ব্যাঙ্কে না পাঠিয়ে পুরসভায় যাতে বিশেষ শিবির করে কাজ করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদীপ সরকার বলেন, পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করে সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা হোক।