Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে বন্ধ মিড ডে মিল

বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে দু›মাস ধরে মিড ডে মিল পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে

সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে বন্ধ মিড ডে মিল
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে দু›মাস ধরে মিড ডে মিল পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পরিচালন সমিতির সভাপতি কোনও চেকে সই না করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিল তুলতে পারছে না। তাই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাস থেকে মিড ডে মিল পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মীদের প্রায় ৯ মাস ধরে কোনও বেতন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্তমানে নিতুড়িয়া ব্লকের জনার্দন্ডি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘিরে অচলাবস্থা দেখা গিয়েছে। ঘটনা ঘিরে এলাকায় শোরগোল পড়েছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (উচ্চ মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শুক্রবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিচালন সমিতিকে নিয়ে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিকভাবে আলোচনা বৈঠক করা হবে। আশা করা হচ্ছে ওই দিন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যালয়ের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শ্যামল কুমার মণ্ডল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠন হয়। মোট ১৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৮০০ জন ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল পরিষেবা পায়। বিদ্যালয়ে হস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই পরিচালন সমিতির সভাপতির সঙ্গে নানা বিষয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরিচালন সমিতির একাংশ অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাজের বিষয়ে কোনও হিসাবপত্র না দিয়ে নিজের মতো কাজ করতে চাইছেন। আর তাতেই পরিচালন সমিতির সভাপতি আপত্তি তুলেছেন। যদিও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি মানতে নারাজ।  প্রধান শিক্ষক বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই বিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করি। প্রথম দু’মাস কোনও অসুবিধা হয়নি। পরিচালন সমিতির সভাপতি সমস্ত চেকে সই করেন। কিন্তু তারপরে তিনি আর চেকে সই করতে চাননি। ফলে প্রায় নয় মাস ধার করে মিড ডে মিল পরিষেবা চালিয়েছি। এখন আর কোনও দোকানদার ধার দিতে চাইছে না। তাই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মিড ডে মিল পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিদ্যালয়ে তিনজন নাইট গার্ড, সাফাই কর্মীদের মতো অস্থায়ী কর্মীদের বেতন আটকে পড়েছে। পরিচালন সমিতির সভাপতি রাজেশ বাউরি বলেন, প্রধান শিক্ষক খরচের কোনও হিসাব দেখাতে চাইছেন না। তাই চেকে সই করেননি। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক প্রথম দু›মাস হিসাবপত্র দেখিয়েছিলেন। তখন চেকে সই করে দিয়েছিলাম। অভিভাবকদের তরফ থেকে থাকা পরিচালন সমিতির সদস্য তথা জনার্দন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে উপপ্রধান নিতাই বাউরি বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজেই সমস্যা তৈরি করে রেখেছেন। সমস্যার সমাধানের জন্য একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু তিনি কখনই হিসাব দেখাতে চান না। নিজের মতো করে বিদ্যালয়ের কাজ করতে চান। বিদ্যালয়ের ভালো-মন্দ দেখার বিষয়টি তো আমাদেরও রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মৈনাক ভান্ডারী, নিষ্প্রীয়া মণ্ডল বলেন, মিড ডে মিল বন্ধ থাকায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে। বাড়ি থেকে টিফিন আনতে হয়। অনেকে টিফিন আনতে পারে না। তাদেরকে খাবার শেয়ার করি। মিড ডে মিল চালু হলে খুব ভালো হয়। নিতুড়িয়া ব্লকের বিডিও প্রবীর কুমার সিনহা বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ