সংবাদদাতা, বনগাঁ: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে খেলাধূলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে রাজনীতি– মাইকের তীব্র আওয়াজের জন্য নাজেহাল বনগাঁবাসী। শহরের মোড়ে মোড়ে ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে বাজছে একাধিক মাইক। শব্দের দাপটে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা নাজেহাল। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার আগে তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইকের শব্দের মোকাবিলা।
মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরজুড়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজছে মাইক। হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সবেতেই থোরাই কেয়ার উদ্যোক্তাদের। বনগাঁ হাসপাতালের সামনে একাধিক ল্যাম্পপোস্টে প্রায় একমাস ধরে উচ্চস্বরে বাজছে মাইক। পাশেই রয়েছে একাধিক নার্সিংহোম। এমন অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে শহরবাসীদের একাংশ। এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে। তার আগে বনগাঁ শহরজুড়ে উচ্চস্বরে মাইকের ব্যবহার পড়ুয়া কিংবা অভিভাবকদের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বনগাঁ হাসপাতাল চত্বর, ত্রিকোণ পার্ক, বাটার মোড়, মতিগঞ্জ মোড় থেকে শহরের অলিগলিতে মাইকের দাপট। সকাল ৯টা নাগাদ শুরু হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রচার। রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির নানা কর্মসূচি। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। কোনও কোনও সময় আরও বেশি সময় ধরে চলে অনুষ্ঠান। এখন বিয়েবাড়িতেও গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার চলছে।
শহরের এক বাসিন্দা সুবল দাস বলেন, শহর জুড়ে এভাবে মাইকের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে, প্রশাসন বলে কিছু নেই। হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোম অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিনভর মাইক কী করে বাজে, জানি না। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অবিভাবক বলেন, মাইকের ব্যবহারের বিধিনিষেধ সারা বছর জারি থাকে বলে জানি। পরীক্ষার সময় প্রশাসন কড়া হাতে বিষয়টি দেখে। বনগাঁর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, প্রশাসন বলে কিছু নেই। এবিষয়ে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, এটা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব। বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অনুরোধ করব, ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে নিয়ম নেমে মাইক বাজান। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোনো বক্তব্য মেলেনি। নিজস্ব চিত্র