নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের দর্জির অ্যাকাউন্টে মহারাষ্ট্র থেকে টাকা পাঠানো হয়েছিল। ২১নভেম্বর সেখানকারই এক ব্যক্তি ১০লক্ষ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠায়। তার আগের দিন ২০নভেম্বর ওই দর্জির পরিচিত দক্ষিণেশ্বরের এক ‘জব এজেন্ট’ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে জানায়, একজনের কাছে ১০লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা তোলার ‘লিমিট’ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা দিতে চাইছে। তারজন্য দু’হাজার টাকা কমিশন দেওয়া হবে বলে দক্ষিণেশ্বরের ওই এজেন্টের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। তাতে নাজক ওই দর্জি রাজি হয়ে যান। ওইদিন ফোনে কথা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে দু’হাজার টাকা জমাও হয়। সেই টাকা জমা হওয়ার পর দক্ষিণেশ্বরের এজেন্ট জানিয়ে দেয়, ২১ নভেম্বর সকালেই তাঁর অ্যাকাউন্টে ১০লক্ষ টাকা জমা হয়ে যাবে। তাঁর সঙ্গে একজন যোগাযোগ করে নেবে। তার হাতেই সেই টাকা তুলে দিতে হবে। দক্ষিণেশ্বরের এজেন্টের নির্দেশমতো তিনি ব্যাঙ্কে পৌঁছে যান। ততক্ষণে তার লোকও ওই দর্জির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেও ভাঙাকুঠির কাছে ব্যাঙ্কের শাখায় পৌঁছে যায়। ব্যাঙ্ক থেকে তোলা টাকা দর্জি তার হাতে দিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি একটি ব্যাগে টাকা ভরে বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে হাওড়া লোকাল ধরে গন্তব্যে রওনা দেয় বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই দর্জি এদিন ফোনে বলেন, যা বলার ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছি। নতুন করে কিছু বলার নেই। দক্ষিণেশ্বরের ওই ব্যক্তি আমার পূর্ব পরিচিত। সেকারণেই তার উপর ভরসা করেছিলাম। কোথা থেকে কে টাকা পাঠাচ্ছে তা জানতাম না। কালো টাকা পাঠানো হচ্ছে জানলে কখনোই অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতাম না।
Advertisement
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দর্জির মতো আরও কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে। সেই সব অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে জেরা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র থেকে যে ব্যক্তি টাকা পাঠিয়েছিল তাকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণেশ্বরের ওই ব্যক্তি মিডিলম্যানের কাজ করে। দর্জির বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর পরই সে গা ঢাকা দিয়েছে। দক্ষিণেশ্বরের ওই ব্যক্তি জব এজেন্টের কাজ করায় বহু শ্রমিকের সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে। অনেকেরই মগজধোলাই করে সে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়েছিল। তার সঙ্গে বর্ধমানের দর্জির হামেশাই কথা হতো। ইডি তল্লাশি না করলে সে আগামী দিনে আরও টাকা পাঠাত। এই কালো টাকার উৎস খুঁজতে ইডি মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওই দর্জিকে মঙ্গলবার আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জেরা করেন। তাঁর ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথিও তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন। আপাতত ওই অ্যাকাউন্টটি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ‘সিল’ করে রেখেছে।



