


অমিত চৌধুরী , তারকেশ্বর: সংকটমোচন। সত্যিই কি সংকটমোচন করতে পারবেন মা?তারকেশ্বরের জয়কৃষ্ণ বাজার দুরন্ত সংঘের পুজোর এবার ৩৮তম বর্ষ। তারাই এবার থিম করেছে পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে ‘সংকটমোচন’। গোটা বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে সংকট। কোথাও খাদ্যের সংকট, কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও আবার মানবিকতার সংকট। পুজোর উদ্যোক্তারা এবার টেনে এনেছেন অহিরাবনকে। পৌরাণিক কাহিনিতে তিনি একজন শক্তিশালী রাক্ষস। লঙ্কার রাজা রাবণের ভাই ছিলেন অহিরাবন। শ্রীরামচন্দ্রকে পাতালে বন্দি করেছিলেন রাক্ষস রাবণের এই ভাই। রামের সন্ধানে হনুমান যখন পাতাললোকে পৌঁছন, তখন তিনি অহিরাবনকে খুঁজে পান। হনুমান তার শক্তি ও বুদ্ধি ব্যবহার করে অহিরাবনকে পরাজিত করেন এবং রামকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনাটিকে হনুমানের বীরত্ব ও সংকট থেকে মুক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। প্রতিমাও তৈরি হয়েছে এই আঙ্গিকে। মণ্ডপে ঢুকলেই চোখে পড়বে ৪৫ ফুটের হনুমান। মণ্ডপের ভিতরে পাতালপুরীর পরিবেশ। রয়েছে পঞ্চমুখী হনুমান ও অভিরাবনের মূর্তি। এই পৌরাণিক কাহিনিকে ভিত্তি করেই দর্শনার্থীদের কাছে তাঁদের মূল ভাবনাকে তুলে ধরেছেন ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাবের সদস্য ও শিল্পী সৌমেনকুমার দাস বলেন, যুদ্ধ, প্রাণহানি, মহামারী, মানুষের প্রতি বিশ্বাস, প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ একাধিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে বিশ্ব। দেবীর কাছে এই সংকট থেকে মুক্তির প্রার্থনা জানাতেই এই থিম করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন প্রজন্মকে একদিকে পৌরাণিক কাহিনি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যাবে, অন্যদিকে আমাদের পৃথিবীতে বজরংবলীর মতো শক্তির প্রয়োজন, যা এই সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দেবে। মণ্ডপের পরিকল্পনা ও কারুকার্য সবটাই ক্লাবের সদস্যরা করেছেন। এটাই আমাদের ক্লাবের বিশেষত্ব। তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় এবছর মোট ৩৬টি পুজো হচ্ছে। পুরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোকে ঘিরে বৈঠক করা হয়েছে। বিচারকদের মতে যে পুজো কমিটি প্রথম হবে, তাদের এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেবে তারকেশ্বর পুরসভা। এছাড়াও পুরসভা এলাকার ৩৬টি পুজো কমিটিকে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র