Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিকলের বেড়িতে ১০ বছর ধরে আটকে খড়গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী মেয়েকে পায়ে লোহার বেড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। খড়গ্রাম ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে বছর বাইশের ওই যুবতীর নাম ময়না খাতুন।

শিকলের বেড়িতে ১০ বছর ধরে আটকে খড়গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী মেয়েকে পায়ে লোহার বেড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। খড়গ্রাম ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে বছর বাইশের ওই যুবতীর নাম ময়না খাতুন। ‘অমানবিক’ এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র খড়গ্রাম বিডিও মিলনী দাস সেখানে লোক পাঠান। তিনি জানিয়েছেন, যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রশাসন ওই পরিবারের পাশে রয়েছে।

Advertisement

যুবতীর দিদিমা নুন্নেহার বিবি বলেন, শুধু নাতনীর নয়, ওর মায়েরও একই রোগ রয়েছে। জামাই নেয়নি, কিন্তু আমরা তো আর ফেলে দিতে পারি না। তাই অভাবের সংসারেও কোনওরকমে ওদের খেতে পড়তে দিচ্ছি। চিকিৎসা করানোর মতো টাকা আমাদের নেই। তাই পায়ে বেড়ি দিয়ে রাখতে হয়েছে। যুবতীর দাদু আলাউদ্দিন শেখ বলেন, ছাড়া পেলেই নাতনী বাইরে ছুটে পালিয়ে যায়। ওকে আটকাতে এছাড়া আমাদের অন্য কোনও উপায় নেই। যুবতী মেয়েকে কোনওভাবেই বাইরে যেতে দিতে পারি না। তাই হয় ঘরবন্দি করে রাখতে হয়, নয় তো পায়ে শেকল, দড়ি বেঁধে রাখতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিবারটি আর্থিক ভাবে ভীষণই দুঃস্থ। যুবতীর এক মামা ও দাদুর রোজগারে পুরো সংসার চলে। মাটির ছিটেবেড়ার ঘরে বাস। স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের খড়গ্রাম উত্তরের সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, ওই পরিবারের মা ও মেয়ে দুইজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। আমরা মাঝে মধ্যেই ওঁদের আর্থিক সাহায্য করি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়না প্রথম দিকে এমন ছিলেন না। গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনাও করতেন। কিন্তু ১০ বছর পেরোনোর পর ধীরে ধীরে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কয়েকবছর আগে স্মৃতি শক্তি একেবারে হারিয়ে ফেলেছেন। এরপর থেকেই তাঁর পায়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। ওই বেড়িতে কখনও শেকল বেঁধে দেওয়া হয়, আবার কখনও দড়ি বেঁধে রাখা হয়। কখনও বা ঘরে শেকল তুলে আটকে রাখা হয়।
যুবতীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নার মা এলিনা বিবির সঙ্গে সবুর শেখের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ২৩ বছর আগে। যুবতীর বয়স যখন ১০ বছর, সেই সময়ে সবুর এলিনাকে ছেড়ে চলে যান। সবুর ফের বিয়ে করে স্থানীয় ঝিল্লি পঞ্চায়েতের বাবলাডাঙা গ্রামে ঘর জামাই থাকেন। এই কয়েকবছরে একটি বারের জন্যও তিনি মেয়েকে দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ।

সম্পর্কিত সংবাদ