অভিষেক পাল, বহরমপুর: ট্রেন ও পুলকারের সংঘর্ষে চার শিশু সহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের কঠিনতম শাস্তির আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে দিলেন আর্থিক সাহায্যের হাতও।
অভিষেক পাল, বহরমপুর: ট্রেন ও পুলকারের সংঘর্ষে চার শিশু সহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের কঠিনতম শাস্তির আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে দিলেন আর্থিক সাহায্যের হাতও।
গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদের কর্ণসুর্বণর গোবিন্দপুর রেল গেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গেট খোলা থাকাকালীনই চলে আসে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সেই সময় বেসরকারি একটি স্কুলের পুলকার লাইনে ঢুকে পড়ে। দ্রুতগতিতে আসা ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে পুলকারটিকে। একবার ভল্ট খেয়ে উল্টে যায় সেটি। মৃত্যু হয় চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর। ঘটনার দিনই মুখ্যমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে, বৃহস্পতিবার যেভাবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দুর এই সহমর্মিতায় কিছুটা হলেও সন্তান হারানোর যন্ত্রণা লাঘব করতে পারলেন বাবা-মায়েরা। গাফিলতিতে যুক্ত দোষীদের শাস্তির আশ্বাসেও বুকে বল পেলেন তাঁরা। তামান্নার দাদু শামিম আহমেদ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের গ্রামে আসবেন ভাবতেই পারছি না। আমরা সকলেই খুশি। উনি যেভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আমার জামাই বাইরে থাকে। এখানে একটা কাজের সুযোগ করে দিলে ভালো হতো।’ সবমিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আন্তরিকতায় মুগ্ধ গোবিন্দপুরবাসী। প্রশাসন সূত্রে খবর, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে গোবিন্দপুরে আসার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু হয়। গ্রামে একটি মঞ্চও তৈরি করা হয়। সেখানে ওঠার আগে তিনি মৃত পড়ুয়াদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন। সমবেদনা জানান। পরে মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বড় আফশোস, এই দুর্ঘটনা ঠেকানো যেত। প্রাথমিক তদন্তের পর রেল পুলিশ ও পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। আমি কথা দিচ্ছি, দোষীরা কঠোরতম শাস্তি পাবেই। ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারকে বলব, জেলে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ করতে হবে। কাস্টডি ট্রায়াল করে যাতে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেওয়া যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ডিএম সাহেবকেও বলব, এই মামলায় স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া চালু করতে।’
এদিন দুপুরে হেলিকপ্টারে এসে বহরমপুর স্টেডিয়ামে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছন গোবিন্দপুরে। শেষে মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে জখমদের সঙ্গে দেখা করে ফের হেলিকপ্টারের চেপে ফিরে যান শুভেন্দু। গোবিন্দপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ, জেলাশাসক আর অর্জুন, মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিং যাদব, পুলিশ সুপার শচীন মক্কার, বিধায়ক ভরত কুমার ঝাওর প্রমুখ।
মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীদের অনুরোধ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারগুলির প্রতি একটু নজর রাখবেন। আমাদের সকলের দায়িত্ব এখন। পুলিশও নজর রাখবে। জেলার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষও নজর রাখবেন। আপনারা গ্রামবাসীরাও একটু সহানুভূতির সঙ্গে দেখাশোনা করবেন। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি সকলকে বাঁচানোর, পারিনি। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে আরও সুরক্ষা বৃদ্ধি করার বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব।’ নিজস্ব চিত্র