Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়িতে আগুন লাগালো মানসিক রোগগ্রস্ত ছেলে, রক্ষা পেলেন বৃদ্ধা

বৃদ্ধা মা ঘরে থাকা অবস্থায় বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে।

বাড়িতে আগুন লাগালো মানসিক রোগগ্রস্ত ছেলে, রক্ষা পেলেন বৃদ্ধা
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃদ্ধা মা ঘরে থাকা অবস্থায় বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা বাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। তারপর ছেলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। শুক্রবার রাতের ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জের থানা রোডে আতঙ্ক ছড়ায়। আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা বৃদ্ধাকে ঘর থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস ও দমকল। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। বৃদ্ধার ছেলে সম্রাট ভদ্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তার মানসিক ভারসাম্যের অভাব রয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

ধুলিয়ান ফায়ার স্টেশনের ওসি বিষ্ণুপদ রায় বলেন, চারটি ইঞ্জিন আনা হয়েছে। তিনটিকে কাজে লাগানো হয়। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টা আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। হতাহতের কোনও খবর নেই। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জ থানার পিছনে একটি পুরনো বাড়িতে বীণা ভদ্র তাঁর বছর তিরিশের এক ছেলেকে নিয়ে বাস করেন। রাত ন’টা নাগাদ বাড়িটির দোতলার ঘর থেকে আগুন বের হতে দেখেন এলাকাবাসী। দ্রুত গোটা বাড়িটিই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। বীণা দেবীর ছেলেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ছেলে প্রায়শই বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ঝামেলা করত। বেশ কিছুদিন ধরে সে মানসিক রোগে ভুগছে বলে কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মা ঘরে থাকা সত্ত্বেও সে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই সে নিজেই দোতলায় থেকে নেমে বাইরে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তারপরে স্থানীয় লোকজন বৃদ্ধাকেও উদ্ধার করে। ওই বাড়ির ঘেঁষাঘেঁষি আরও বহু বাড়ি রয়েছে। আতঙ্কিত লোকজন ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন ও বালতিতে করে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। ঘরের মধ্যে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণেই আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বলে এলাকাবাসীর অনুমান। প্রথমে জঙ্গিপুর ফায়ার স্টেশনে থেকে দমকলের দু’টি গাড়ি আসে। পরে ধুলিয়ান থেকে আরও দু’টি দমকলের গাড়ি আসে। পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পুরুষোত্তম হালদার বলেন, বৃদ্ধা ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। বৃদ্ধার ছেলে মানসিক রোগগ্রস্ত বলে জেনেছি। কীভাবে আগুন লেগেছে পুলিস তদন্ত করছে। জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, পরিস্থিতি দেখে এসেছি। বাড়িটি বহু পুরনো। ফলে বাড়িটির উপর নজর রাখা 
হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ