Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর আতঙ্কে বাড়ছে মনোরোগী!

এসআইআর আতঙ্কে হাসপাতালে বাড়ছে মনোরোগী! ভোটার তালিকায় নাম কাটা গেলে কী হবে, এই আতঙ্কে অনেকের অসুস্থতা পৌঁছে যাচ্ছে চরম পর্যায়ে।

এসআইআর আতঙ্কে বাড়ছে মনোরোগী!
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: এসআইআর আতঙ্কে হাসপাতালে বাড়ছে মনোরোগী! ভোটার তালিকায় নাম কাটা গেলে কী হবে, এই আতঙ্কে অনেকের অসুস্থতা পৌঁছে যাচ্ছে চরম পর্যায়ে। কারও কারও মধ্যে দেখা দিচ্ছে ‘উন্মাদের’ লক্ষণ। ফোবিয়া এতটাই বাড়াবাড়ি রকমের যে, হাসপাতালে বসেও রোগী ভাবছেন জায়গাটি বোধ হয় থানা! চিকিৎসকদের কাছে নিজের নাম বলতে ভয় পাচ্ছেন মানসিক রোগাক্রান্ত রোগীরা। কাউন্সেলিংয়ের সঙ্গে কড়া ডোজের ওষুধ দিতে হচ্ছে তাঁদের। 

Advertisement

জলপাইগুড়ি মেডিকেলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নোটবন্দির সময় মনোরোগীর সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। এসআইআর আবহে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিশেষ করে যাঁদের নথিপত্র ঠিক নেই তাঁদের অনেকের মধ্যে ‘ম্যানিক সিনড্রোম’ দেখা দিচ্ছে। বাসা বাঁধছে উদ্বেগ। ফলে রাতের ঘুম কমে যাচ্ছে তাঁদের। খিটখিটে হয়ে পড়ছেন। কেউবা একেবারে চুপচাপ হয়ে যাচ্ছেন। 
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, বন্যার সময়ও আমরা এমন বেশকিছু রোগী পেয়েছিলাম, চোখের সামনে প্রকৃতির ধ্বংসলীলা দেখে যাঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসআইআর সংক্রান্ত ফোবিয়া থেকেও কিছু মানুষ মনোরোগের শিকার হয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনে ওইসব রোগীর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার জলপাইগুড়ি মেডিকেলের মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসক স্বস্তিশোভন চৌধুরী বলেন, এমনিতে প্রতিদিন প্রচুর মনোরোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু, এখন এমন কিছু রোগী আসছেন, এসআইআর ইস্যুতে যাঁদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের মনোরোগ বিভাগের অপর চিকিৎসক আফনান সৈয়দের দাবি, বেশকিছু রোগীর মধ্যে ফোবিয়া অর্থাৎ কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে মারাত্মক ভয় পাওয়া এবং তা থেকে মনোরোগী হয়ে পড়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ ‘বাই পোলার ডিসঅর্ডারে’ আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে রোগীর মেজাজ ও কাজকর্মে আচমকা পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনও রোগী অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন কিংবা তাঁর মধ্যে ম্যানিক উপসর্গ অর্থাৎ অতিরিক্ত উত্তেজনা, বিরক্তিভাব ও ঘুম না হওয়া কিংবা অতি সক্রিয়তার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
ডাঃ আফনান বলেন, চলতি সপ্তাহে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে আমরা ৬৫ বছরের এক বিধবা মহিলা রোগী পেয়েছি, যিনি পেনশন পান। বাড়িতে একা থাকেন। ওই মহিলা এমনিতেই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এর মধ্যে কেউ হয়তো তাঁকে বুঝিয়েছেন, সমস্ত কাগজপত্র না পাওয়া গেলে তাঁর পেনশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকী তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি ঘরে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কাগজপত্র না পেয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন যে, আত্মীয়রা তাঁকে জোর করে হাসপাতালে আনার পর ওই রোগী সমানে বলছিলেন, ‘এটা কি থানা?’ আমি যখন তাঁর নাম জানতে চাই, তিনি আঁতকে ওঠেন। বলেন, ‘আপনি কে? আপনি কি পুলিশ? আমাকে ধরে রেখে দেবেন?’ ওই রোগীকে আমরা ১৪ দিনের ওষুধ দিয়েছি। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ