Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এগরার নেগুয়ায় অবহেলিত বঙ্কিমচন্দ্রের বহু স্মৃতি, রক্ষার দাবি স্থানীয়দের

এগরার নেগুয়ায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহু স্মৃতি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি রক্ষার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

এগরার নেগুয়ায় অবহেলিত বঙ্কিমচন্দ্রের বহু স্মৃতি, রক্ষার দাবি স্থানীয়দের
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: এগরার নেগুয়ায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহু স্মৃতি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি রক্ষার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ১৮৬০সালে বঙ্কিমচন্দ্র তৎকালীন অবিভক্ত নেগুয়া মহকুমার (বর্তমান কাঁথি মহকুমা) ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ওই বছর জানুয়ারি মাসে বঙ্কিমচন্দ্র নেগুয়ায় আসেন। ২১জানুয়ারি থেকে ৭নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০মাস সেখানে ছিলেন সাহিত্যসম্রাট। নেগুয়ায় একটি ভবনে বসে তিনি প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতেন। যদিও ভবনটি বহু আগেই বিলীন হয়ে গিয়েছে। এখানে থাকাকালীন সাহিত্যসম্রাট তাঁর অমরসৃষ্টি ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস রচনা করেন। নেগুয়াকে কপালকুণ্ডলার ‘উদ্ভবক্ষেত্র’ বলা হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের সেই শুভাগমনের স্মৃতিকে মনের মণিকোঠায় যত্ন করে ধরে রেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর স্মৃতি নেগুয়াজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এখানে একটি কমিউনিটি হল তৈরি, পড়ে থাকা জায়গাটিকে কাজে লাগানো, বঙ্কিমচন্দ্রের পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন সহ বাসিন্দাদের একগুচ্ছ দাবি রয়েছে। পাশাপাশি, এলাকাটিকে ঘিরে পর্যটনের পরিকল্পনা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

Advertisement

বঙ্কিমচন্দ্রের শুভাগমনের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের নামেই আনন্দমঠ সংঘ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট  পঞ্চায়েতের নামকরণ করা হয়েছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র। এগরা-রামনগর সড়কের খাতায়-কলমে নাম বঙ্কিম সরণী। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র পাঠশালা। ১৯৯৫সালে এগরার তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী প্রবোধ সিনহার উদ্যোগে নেগুয়া বড়পুকুর এলাকায় বঙ্কিমচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তি বসে। আনন্দমঠ সংঘের উদ্যোগে তিন দশক ধরে বঙ্কিম স্মৃতি মেলা চলছে। বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিতে নেগুয়া সুন্দরনারায়ণ হাইস্কুলের সামনে রয়েছে একটি স্মৃতিফলক। যদিও বর্তমানে ফলকটি মলিন অবস্থায় রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা তথা আনন্দমঠ সংঘের কর্মকর্তারা বলেন, এখানে একটি কমিউনিটি হল খুবই দরকার। যেখানে বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টি, কর্মধারা নিয়ে চর্চা কিংবা সভা-সমিতির আয়োজন করা যাবে। সাহিত্যসম্রাট যে ভবনে প্রশাসনিক কাজকর্ম করতেন, তার কোনও অস্তিত্ব না থাকলেও জায়গাটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁরা জায়গাটিকে কাজে লাগানোর দাবি তুলেছেন। আনন্দমঠ সংঘের সদস্য ননীগোপাল জানা বলেন, আমরা কমিউনিটি হল তৈরির ব্যাপারে আগেই তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। পর্যটন-সহায়ক পরিকাঠামো গড়ার পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিধন্য এই এলাকায় পরিচিতিমূলক বোর্ড টাঙানো সহ নানা ব্যবস্থা নিলে ভালো হবে। এতে দীঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি কিছুসময় কাটিয়ে যেতে পারবেন। সরকারিভাবে উদ্যোগ শুরু হলে অবশ্যই পরিকল্পনা সফল হবে। বিডিও দুর্গাপ্রসাদ ঘোষ বলেন, ইতিপূর্বে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের তরফে আমাদের কাছে এলাকায় কোনও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে কি না, সেব্যাপারে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছিল। আমরা নেগুয়া এলাকার বিবরণ সহ প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে এখানে পর্যটন-সহায়ক পরিকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাকি সমস্যাগুলি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ