গান্ধীনগর: ৩০ অক্টোবর, ২০২২। গুজরাতের মোরবি শহরে মাচ্চু নদীর উপর ভেঙে পড়ে সেতু। দুর্ঘটনায় ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বছর তিনেক পর সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরল বুধবার। এদিন সকালে গুজরাতের ভদোদরায় মহিসাগর নদীর উপর ভেঙে পড়ল গম্ভীরা সেতুর একাংশ। ব্রিজ থেকে নদীতে খেলনার মতো পড়ল একের পর এক গাড়ি। দুর্ঘটনায় এপর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও ডুবুরি দল। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এই সেতু বিপর্যয়ের পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য গুজরাতের সরকার। স্থানীয়দের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেতুর দেখভালের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার বা প্রশাসন কেউই কোনও আমল দেয়নি। তাদের অবহেলার জেরেই এই দুর্ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল।
৪৫ বছরের পুরনো গম্ভীরা সেতুর স্বাস্থ্য নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। ৯ দিন আগে এক স্থানীয় সাংবাদিক সেতুর বেহাল দশা নিয়ে খবর করেছিলেন। একটি ভিডিও তৈরি করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, বর্ষার সময় সেতু বিপজ্জনক হয়ে যাবে। একাধিক জায়গায় জল জমে। গর্ত তৈরি হয়। এপ্রিল মাসেও আর এক সাংবাদিক এনিয়ে খবর করেন। সেতুর গায়ে ফাটল দেখিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। স্থানীয়দের বক্তব্য, এতকিছুর পরও কোনও গুরুত্ব দেয়নি প্রশাসন। তাদের উদাসীনতার জেরেই এতগুলো প্রাণ গেল। অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এনিয়ে ভদোদরার এসপি রোহন আনন্দ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হবে। এনিয়ে জেলাশাসকের কাছ থেকে একটি রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।
মোদি রাজ্যের এই ঘটনায় আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, কলকাতার পোস্তায় ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর মোদি বলেছিলেন অ্যাক্ট অফ ফ্রড। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ডাবল গুঁতোয় বেসামাল গুজরাত। সেতু ভেঙে মাশুল গুনছে মানুষ। নরেন্দ্র মোদি হয়তো পুরো বিষয়টিকে ‘অ্যাক্ট অফ গড’ বলে চালাবেন। কিন্তু এই সবটাই যে আসলে ‘অ্যাক্ট অফ ফ্রড’ সেটা আর মানুষের বুঝতে বাকি নেই। সরব হয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য শক্তিসিন গোহিল। তিনি বলেন,‘এই ঘটনার জন্য বিজেপি দায়ী। আসলে যারা কাজের বরাত পায়, তাঁদের বিজেপির অফিসে টাকা দিতে হয়। তাই সেতু-রাস্তার ঠিক করে রক্ষণাবেক্ষণও হয় না।’ শিবসেনা (উদ্ধব) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও বলেছেন, ঘটনার জন্য যে সরকার ও সংস্থা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হবেন গুজরাতবাসী।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলও। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, অবিলম্বে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা।