Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গরিবের রেশন ঢুকছে সাড়ে ৩ কোটি সরকারি অফিসারের ঘরে! নামেই বজ্র আঁটুনি

নাম ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’। অথচ ‘গরিবে’র নামে ছ’ লক্ষ টাকার বেশি উপার্জনশীল গোটা দেশের কয়েক কোটি সরকারি অফিসার বছর বছর রেশনের বিনামূল্যের খাদ্য‌শস্য নিয়ে যাচ্ছে। তালিকায় কে নেই?

গরিবের রেশন ঢুকছে সাড়ে ৩ কোটি সরকারি অফিসারের ঘরে! নামেই বজ্র আঁটুনি
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: নাম ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’। অথচ ‘গরিবে’র নামে ছ’ লক্ষ টাকার বেশি উপার্জনশীল গোটা দেশের কয়েক কোটি  সরকারি অফিসার বছর বছর রেশনের বিনামূল্যের খাদ্য‌শস্য নিয়ে যাচ্ছে। তালিকায় কে নেই?  রেল, ডাকঘর থেকে পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (পিএফএমএস)র কর্মচারী —আছেন সকলেই। খাদ্যমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট, এহেন তথাকথিত গরিব মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ২ হাজার ৭৩০। এদের মধ্যে আবার অনেকেরই রয়েছে চার চাকার গাড়িও। নিয়ম অনুসারে চার চাকা থাকলে, ওই রেশন পাওয়ার কথাই নয়।  

Advertisement

প্রধানমন্ত্রীর নামে হওয়া এই অন্ন যোজনায় দেশের গরিব এবং অতি গরিব নাগরিকদেরই রেশন পাওয়ার কথা। ‘প্রায়োরিটি হাউস হোল্ড’ এবং ‘অন্তোদ্যয় অন্ন যোজনা’—এই দুটি শ্রেণিকে গণবণ্টন ব্যবস্থায় রেশন দোকানের মাধ্যমে দেওয়া হয় ফ্রি চাল গম। কিন্তু অযোগ্য গ্রাহকের নামে সরকারের ভরতুকিতে দেওয়া চাল গম বেহাত হচ্ছে বলেই মন্ত্রকের রিপোর্টে উঠে এসেছে। সাড়ে তিন কোটিরও বেশি ‘স্বচ্ছল’ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার সুবিধা নিয়ে চলে যাচ্ছে।
মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রেলের মতো সংস্থায় কাজ করেন ৭ লক্ষ ৭ হাজার ২৫৮ জন। ডাকঘরের ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬৭৩। কর্পোরেট সংস্থার ডিরেক্টরের পদে কর্মরত ১৬ লক্ষ ৩২ হাজার ১৮৪ জন সুবিধাভোগীরও সন্ধান মিলেছে। চার চাকা রয়েছে এমন ৩২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫১ জনও নিচ্ছেন রেশনের ফ্রি চাল গম। ‘ডুপ্লিকেট বেনিফিসিয়ারিজে’র সংখ্যাও প্রচুর। ১০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬০৪। রিপোর্ট দেখে তাই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি  নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এই সব রেশন কার্ড ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করা হচ্ছে। 
যদিও কার্ড ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ হয়ে গেলেও গ্রাহককে অবগত না করায় সিংহভাগ সময় সমস্যায় পড়ছেন রেশন দোকানদারা। বেধে যাচ্ছে বচসা। বাড়ছে বিবাদ। ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, কেন্দ্র কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেট করছে। আর গ্রাহক ভাবছে আমরা রেশন দিচ্ছি না। ওদের বরাদ্দ খাদ্যশস্য নিয়ে নিচ্ছি। অনেক সময়ই গ্রাহকরা চড়াও হচ্ছেন বলেও অভিযোগ। এরই মধ্যে আবার মন্ত্রক সূত্রে জানা জানা গিয়েছে, রাজ্যগুলির কাছে মোদি সরকার খবর নিচ্ছে কোথায় কত শতায়ু নাগরিক রয়েছেন। আদৌ কি তাঁরা রেশন নিচ্ছেন? নাকি বেহাত হচ্ছে? জীবিত আছেন তো? খাদ্যমন্ত্রক এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ১৩২ জন শতায়ুর সন্ধান পেয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ