নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মেলায় জুয়ার আসর বসানোর জন্য নিলাম ডেকেছিল কমিটি। তাতে সর্বোচ্চ দর উঠল ১২লক্ষ টাকা! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে ভগবানপুর-১ ব্লকের গুমকিয়া শ্যামচক বাহাদুরপুর সর্বজনীন মেলায়। আগামী কাল ১২মার্চ থেকে এই মেলা বসছে। আগামী ২১মার্চ পর্যন্ত কালীপুজো উপলক্ষ্যে এই মেলা চলবে। ৮০বছরের পুরনো এই মেলার মূল আকর্ষণ হল, বাজি পোড়ানো এবং জুয়া। পুজোর দিন সারারাত বাজি পোড়ানো হয়। মানতের বাজি শেষ করতে সকাল হয়ে যায়। মেলার একটা বড় অংশজুড়ে জুয়ার আসর বসে। নানা ধরনের জুয়া খেলেন কিশোর থেকে যুবক, মাঝবয়সিরা। ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় সারারাত ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা ওড়ে। জুয়াড়িদের মাধ্যমে সেই টাকার ভাগ পৌঁছয় কমিটির তহবিলে। এভাবেই এই মেলায় জুয়াড়িরাই মূল ‘স্পনসর’ হয়ে আসছে।
ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েতের অধীন কোটবাড় পঞ্চায়েতের গুমকিয়া গ্রামে কালীমন্দির রয়েছে। দেবী ভীষণ জাগ্রত বলে লোকমুখে প্রচলিত। দোল পূর্ণিমার একদিন আগে এখানে প্রতি বছর পুজো হয়। গুমকিয়া, শ্যামচক ও বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দারা এই পুজোয় সরাসরি অংশ নেন। সেই সুবাদে তিনটি গ্রামের নামে পুজো কমিটির নামকরণ। দেবীর বড় মন্দির রয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে। বাজেট বড় অঙ্কের হওয়ায় মেলা ১০দিন ধরে চলতে থাকে। পুজোর রাতে পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। মানত করার পর ভক্তরা নানারকমের পুতুল মন্দিরে দেন। এছাড়াও মানত করে বাজি পোড়ানো এখানকার পুরনো ঐতিহ্য।
এবার পুজো ও মেলার বাজেট ১৫লক্ষ টাকার বেশি। কলকাতা থেকে পরপর তিনদিন অর্কেষ্ট্রা টিম আনা হচ্ছে। এছাড়াও চারদিন নামী অপেরার যাত্রাপালা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। গুমকিয়া গ্রামে মেলা বসতে শুরু করেছে। ১২তারিখ মায়ের পুজোর দিন লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। তবে, এই মেলার সঙ্গে জুয়ার সম্পর্ক অনেক পুরনো। তাই জুয়াড়িরা এই মেলায় আসর পাতার জন্য মুখিয়ে থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগায় কমিটি। একেবারে নিলাম ডেকে সর্বোচ্চ দর ওঠা জুয়াড়িকে গোটা মেলা প্রাঙ্গণে জুয়ার আসর বসানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে এই প্রথম ১২লক্ষ টাকা দর উঠল বলে জানা গিয়েছে।
যদিও জুয়ার মতো একটা সর্বনাশা ও অবৈধ কারবারকে মেলার কমিটির উদ্যোক্তারা ‘প্রোমোট’ করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। এমনিতেই লটারি, অনলাইন লোটো, সাট্টার নেশায় অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত। বেআইনি একটা কারবারকে যেভাবে মেলায় স্বীকৃতি দেওয়া হয় সেটা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয় বলে অনেকের দাবি। মেলা কমিটির সম্পাদক হিসেবে ৩০বছর ধরে আছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি বলেন, আগে জুয়ার আসর জমিয়ে বসত। এখন লটারির দাপটে জুয়ার আসর ততটা জমে না। তবে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় থেকে আমরা অনুদান নিই। যাঁরা জুয়ার আসর বসান তাঁদের থেকেও কিছু অর্থ সাহায্য নেওয়া হয়। এখানকার দেবী জাগ্রত। বাজেটের বেশিরভাগটাই ভক্ত ও কমিটির সদস্যের অনুদান থেকেই আসে।