সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: এলাকায় একেরপর এক বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন হলদিবাড়ি ব্লকের পার মেখলিগঞ্জ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ঝাড় সিংহাসনে থাকা গ্রামবাসীরা। চলতি বছরের জুলাই মাসে দু’জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে গ্ৰামবাসীরা হলদিবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গত সেপ্টেম্বর মাসে দু’জন বাংলাদেশিকে ধরে ফেলেন গ্ৰামবাসীরা। পুলিশ পৌঁছে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাই স্থানীয় গ্রামবাসীরা এখন প্রতিরাতে পালা করে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন।
কোচবিহার জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ি ব্লক মোট ৩৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। তাঁর মধ্যেই নদীপথ সহ মোট দেড় কিমি উন্মুক্ত। রাতের অন্ধকারে বিএসএফের চোখ এড়িয়ে তিস্তা নদীর উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশের করিডর বানিয়ে নিয়েছে বলে গ্রামবাসীদের দাবি।
ঝাড় সিংহাসন গ্রামের গৃহবধূ মানসী অধিকারী বলেন, সম্প্রতি এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানরা পাহারা দিলেও বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশ করছে। যেকোনও সময় অশান্তির আশঙ্কা আমরা করছি। তাই আমরা চাই, বিএসএফের পাশাপাশি পুলিশও এই এলাকায় টহল দিক।
আরএক বাসিন্দা গৌরাঙ্গ রায় বলেন, বাইরের কোথাও থেকে আমাদের আত্মীয়পরিজন এলে অনেক সময় বিএসএফ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। কারণ মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়ছে। সন্দেহ করে জওয়ানরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাই আত্মীয়রা আসতে চান না। আমরা চাই, বাংলাদেশিদের বেআইনিভাবে প্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করুক প্রশাসন। আমরা গ্ৰামবাসীরা এখন রাত পাহারা দেই। শীতকাল পড়তে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে রাতে এবং ভোরে কুয়াশা পড়বে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশিরা। তাই আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা পবিত্রা রায় বলেন, তিস্তা নদীর উন্মুক্ত সীমান্তে জওয়ানরা যাতে সক্রিয় থাকেন তারজন্য বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় রাতের বেলা গ্ৰামবাসীরা পাহারা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাহুল ওরাওঁ জানান, বিএসএফ নিজেদের মতো করে টহল দিলেও পুলিশ এলাকায় প্রতিরাতে টহল দিচ্ছে। উদ্দেশ্যহীনভাবে কাউকে রাতে গ্রামে ঘোরাফেরা করতে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিস্তার ৭ নম্বর স্পার এলাকায় উন্মুক্ত সীমান্ত। - নিজস্ব চিত্র।