বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি ও কলকাতার বিমান পরিষেবা বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রকে চিঠি দিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল। কিন্তু আপাত নিরীহ এই চিঠি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। ওয়াকিবহাল মহলের মত, রাজ্যপালের এই পদক্ষেপেই প্রমাণিত হল, কুকি জনগোষ্ঠী তাদের কাছে উপেক্ষিত। বরং মেইতেইদের তুষ্ট রাখতে মরিয়া প্রশাসন।
মণিপুরে রেল যোগাযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে রাজ্যের বাইরে যেতে হলে বিমান ছাড়া গতি নেই। কিন্তু তার ভাড়া সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তথ্য বলছে, আকাশছোঁয়া বিমানভাড়ার জেরে মণিপুরে পর্যটকদের সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০১৯-২০ সালে যেখানে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৯ হাজার (১ লক্ষ ৬৭ হাজার দেশি পর্যটক এবং ১২ হাজার জন বিদেশি), ২০২৪-২৫ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ হাজারে (১৫,৭০০ দেশি এবং ১,৩০০ বিদেশি)। সোমবার ইম্ফলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠকে এই পরিসংখ্যান জানান রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই। সঙ্গে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়টি আলোচনা করেছিলেন। তাঁকে জানানো হয়, বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পর্যটন শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মণিপুরের কংগ্রেস সভাপতি কেইশাম মেঘচন্দ্র সিংয়ের অভিযোগ, এই পরিমাণে ভাড়াবৃদ্ধি জনসাধারণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি বলেন, ‘মণিপুরে বিমান যাত্রা বিলাসিতা নয় বরং এখানে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তাই অবিলম্বে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মেইতেই সম্প্রদায় রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লার কাছে দরবার করে। তাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রীকে চিঠি দেন তিনি। তাতে লিখেছেন, ‘মণিপুরে আসতে এবং রাজ্য থেকে বেরতে বিমানই একমাত্র ভরসা। কারণ, মণিপুরে সড়ক যোগাযোগ বন্যার ফলে বিধ্বস্ত। ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি এবং কলকাতায় যে সংখ্যক বিমান চলত, তার পরিমাণ কমে গিয়েছে। ভাড়াও অত্যধিক। বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হোক।’ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সেই চিঠি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন তিনি। তারুপরই শুরু হয় বিতর্ক। নেটিজেনদের দাবি, হিংসাদীর্ণ মণিপুরে সড়কপথে অবাধ চলাচল নিরাপদ নয়, সে বিষয়টি আড়াল করতেই বন্যার কথা লিখেছেন রাজ্যপাল। দ্বিতীয়ত, বিমান ভাড়া নিয়ে সদ্য মেইতেইরা সুর চড়িয়েছিলেন। তারা ইম্ফল বা সংলগ্ন জেলায় বসবাস করেন। তাই বিমানভাড়া কমানোর জন্য তৎপর জ্যপাল। অথচ, কুকিদের কোথাও যেতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা এবং সময় ব্যয় করে ইম্ফলে আসতে হয়। কুকি অধ্যুষিত জেলা চূড়াচাঁদপুরে নতুন বিমানবন্দরের আবেদন না জানিয়ে ইম্ফল বিমানবন্দরে বিমান সংখ্যা বৃদ্ধির আর্জি কেন জানালেন তিনি!
এই বিতর্কের মধ্যেই মণিপুরের রাজ্যপালের আবেদনের পর, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবিষয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ইম্ফল-গুয়াহাটি রুটের ভাড়া সর্বাধিক ৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং গুয়াহাটি ও কলকাতায় প্রতিদিন দু’টি অতিরিক্ত বিমান চালু করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।-ফাইল চিত্র