Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

এবার শালবনীতে হবে মেগা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় শালবনীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার পূরণ হতে চলেছে। শিল্পায়নের লক্ষ্যপূরণে পুজোর আগেই শালবনীতে ১৬০০মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

এবার শালবনীতে হবে মেগা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় শালবনীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার পূরণ হতে চলেছে। শিল্পায়নের লক্ষ্যপূরণে পুজোর আগেই শালবনীতে ১৬০০মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জিন্দাল গোষ্ঠীর তরফেই এই আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়া হবে। আগামী ২৫সেপ্টেম্বর শালবনীর জামবেদিয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষের অঙ্কুর কমপ্লেক্সে এনিয়ে গণশুনানি আয়োজিত হচ্ছে। সেখানে শালবনীর নিতাইপুর সহ একাধিক গ্রামের মানুষ উপস্থিত থাকবেন।

Advertisement

প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হলে দূষণ হবেই। তাছাড়া, কারখানা তৈরির কাজেও স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই গণশুনানিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। গ্রামবাসীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকবে কারখানা কর্তৃপক্ষ। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের আধিকারিকরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, সমস্ত বড় প্রজেক্টের আগেই এধরনের গণশুনানি হয়। গ্রামবাসীদের এতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
শালবনীতে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গণশুনানির খবরে খুশি এলাকার বাসিন্দারাও। শালবনীর বিভিন্ন গ্রামে বেকার যুবক-যুবতী রয়েছেন। তাঁরা পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটিআই সহ নানা ক্ষেত্রের পড়াশোনা করেও চাকরি পাননি। এই প্রজেক্ট হলে গ্রামের যুবক-যুবতীরা চাকরি পাবেন। সেইসঙ্গে শালবনীতে কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে একটি স্কিল ট্রেনিং সেন্টার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
শালবনীতে কারখানা তৈরির জন্য জমি দিয়েছিলেন আদিত্য মাহাত। তিনি বলেন, কারখানা তৈরি হলে নিশ্চিতভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে। আমরা চাই, স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হোক। এতে গ্রামের অর্থনীতি বদলে যাবে। এই সিদ্ধান্তে আমরা সবাই খুশি।
বাম আমল থেকেই শালবনীর মানুষ শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখছিলেন। ২০০৭সালে জিন্দাল গোষ্ঠীর হাত ধরে এখানে দেশের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই কারখানা তৈরির জন্য কুলফেনী, আসনাশুলি, গাইঘাট সহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ জমিদান করেছিলেন। জিন্দালরা রায়ত, পাট্টা, খাসজমি মিলিয়ে প্রায় ৪৩০০একর ভূমি অধিগ্রহণ করেছিল। কারখানা হলে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে বলে শালবনীর মানুষ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ২০০৮সালে ইস্পাত কারখানা তৈরির কাজ বন্ধ হয়। ফলে স্থানীয়দের হতাশ হতে হয়। এরপর এলাকার বাসিন্দারা অধিগ্রহণ করা জমিতে কারখানা তৈরির দাবি জানাতে থাকেন। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শালবনীর মানুষের শিল্পায়নের স্বপ্নপূরণে উদ্যোগী হন। ২০১৬সাল নাগাদ জিন্দাল গোষ্ঠীর তরফে অধিগৃহীত জমির কিছু অংশে একটি সিমেন্ট কারখানা তৈরি করা হয়। সেখানে স্থানীয় কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছিল। তবে এতদিন প্রায় ৮০শতাংশ জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েই ছিল। এবার সেই জমিতেই ১৬০০মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এখবরে শালবনীর মানুষ ফের আশায় বুক বেঁধেছেন।
শালবনীর বাসিন্দা তথা ক্রীড়া সংগঠক সন্দীপ সিংহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এই এলাকার মানুষের কথা ভেবেছেন। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির খবরে আমরা সবাই খুশি। কারখানা কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করবে বলে আমরা আশাবাদী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ