শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: রবিবার প্রচারে শেষদিনে নন্দীগ্রামে দু’জায়গায় পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থকের ঢল নামল। সকালে টেঙ্গুয়া থেকে নন্দীগ্রাম থানা মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল থেকে শুভেন্দুবাবুর ঘোষণা-‘বিরোধীদের জমানত জব্দ হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সিকিউরিটি মানি ফেরত পাবে না।’ সকালে টেঙ্গুয়া থেকে মিছিল করার সময় নন্দীগ্রামের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বাইতুল ইসলাম গলায় গেরুয়া উত্তরীয় নিয়ে ভিড়েঠাসা সেই পদযাত্রার মধ্যমণি শুভেন্দুবাবুর সামনে চলে আসেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। বাইতুলকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের কী হবে? জবাবে বাইতুল বলেন, ‘দাদা আমার বুথে ১০১৮ ভোটার। তারমধ্যে এক হাজার ভোট পদ্মফুলে।’ মুচকি হেসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু কাউকে ভয় দেখায়নি।’
রবিবার বিকালে প্রচারের শেষ প্রহরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নন্দীগ্রাম-১ব্লকের রাজারামচক থেকে চৌরঙ্গী পর্যন্ত পদযাত্রা করেন শুভেন্দুবাবু। তাতে একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আবু তাহেরের স্ত্রী আনিশা খাতুন, তাঁর ভাই এনামুল যোগ দেন। রাস্তার দু’ধারে অসংখ্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল, ফুলের মালা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তাঁরা ফুলের পাপড়ি ছুড়ে দেন। গত ২৩এপ্রিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকলেও পালাবদলের পর ছবিটা বদলে গিয়েছে। এদিন বিকালের মিছিলেই সেটা আরও পরিষ্কার হয়।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মোট ন’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এই ভোটে ধারেভারে কয়েক কদম এগিয়ে। এই নির্বাচনে বিরোধীরা ছন্নছড়া। ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর চোখেমুখে প্রবল আত্মবিশ্বাস। তারপরও তিনি প্রচারে কোনোরকম ফাঁকফোকড় রাখেননি। তাঁর অভিধানে আত্মতুষ্টি বলে কোনো শব্দ নেই। গত ২সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম-২ব্লকে পরপর তিনটি নির্বাচনি সভা করেছেন। রবিবার প্রচারের শেষদিন তিনি নন্দীগ্রাম-১ব্লকে জোড়া র্যালি করে বিরোধীদের থেকে আরও কয়েক কদম এগিয়ে রইলেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নন্দীগ্রামের মানুষ জিতিয়েছিলেন বলেই ২০২১সালে বিরোধী দলনেতা হয়েছি। এবার জিতিয়েছেন বলেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। এখানে বিরোধী বলে কিছু নেই। সবই তৈরি করা বিরোধী। ওদের প্রত্যেকের সিকিউরিটি মানি চলে যাবে। কেউ জামানত রক্ষা করতে পারবে না।’
এদিনের মিছিলে বাইতুল থেকে তাহেরপত্নীর যোগ দেওয়ার ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। শুভেন্দুবাবু নিজে এই ভোটের ময়দান থেকেই সংখ্যালঘুদের কাছে বন্ধুত্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ মডেলেই তিনিও সবধর্মের মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে আবেদন রেখেছিলেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নন্দীগ্রামের দলে দলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ শুভেন্দুবাবুর মিছিলে হাঁটলেন। সঙ্গ ছিলেন একদা দাপুট তৃণমূল নেতা বাইতুল, তাহেরপত্নীও। অনেকেই বলছেন, অতীতে তাঁর রাজনীতিতে ভেদাভেদ ছিল না। নন্দীগ্রামে সকলে তাঁকে পাশে পেতেন। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আবারও দুই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহাবস্থান করতে চান। নন্দীগ্রাম থেকেই সেই বার্তা দিয়েছেন।
এদিন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, দলের নেতা মেঘনাদ পাল, সংখ্যালঘু এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আফজল শা সহ আরও অনেকে অংশ নিয়েছিলেন। আফজল শা বলেন, সংখ্যালঘু মানুষ সবরকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব সরিয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। সেদিক থেকে আগামী দিনে এই ভোট একটা মাইল ফলক হিসাবে চিহ্নিত হবে।