Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে বন্ধ মিনিস্টিল কারখানা চালু করতে বৈঠক, খুশি শ্রমিকরা

সিউড়ি মহকুমার মল্লিকপুরে থাকা জেলার একমাত্র রোলিং মিল মিনিস্টিল কারখানা চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী রাজ্য সরকার।

সিউড়িতে বন্ধ মিনিস্টিল কারখানা চালু করতে বৈঠক, খুশি শ্রমিকরা
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সিউড়ি মহকুমার মল্লিকপুরে থাকা জেলার একমাত্র রোলিং মিল মিনিস্টিল কারখানা চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। শুক্রবার কলকাতায় শ্রমদপ্তরের কনফারেন্স হলে মন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বৈঠকে জেলার একমাত্র রোলিং মিল পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী রাজ্যের তরফে মালিকপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। টানা প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকা কারখানা চালু করতে রাজ্যের এই উদ্যোগে শ্রমিকমহলে খুশির হাওয়া। সকলেই কাজ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। বিধায়ক বিকাশবাবু বলেন, সম্প্রতি বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। এরপরই শ্রমমন্ত্রী এদিন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক সারলেন। বৈঠক যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে। আশা করছি অতি দ্রুত আবারও জেলার একমাত্র রোলিং মিল চালু হবে। শতাধিক শ্রমিক আবারও কাজ ফিরে পাবেন।

Advertisement

সদর শহর সিউড়ি লাগোয়া মল্লিকপুরে জেলার একমাত্র রোলিং মিলটি রয়েছে। ২০২২সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মালিকপক্ষ একাধিক অজুহাত দেখিয়ে আচমকা মিনিস্টিল প্ল্যান্ট রোলিং মিলের দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় ৩০০জন শ্রমিক কাজ হারান। আচমকা কাজ হারিয়ে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তাঁদের পাশে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার। বিধায়কের উদ্যোগে ওই বছর অক্টোবর মাস থেকে শতাধিক শ্রমিক ১৫০০টাকা করে ভাতা পেতে শুরু করেন। সংসার চালাতে বেকার শ্রমিকরা বিকল্প রুটিরুজির পথ খুঁজেছেন। কেউ টোটো চালাচ্ছেন আবার কেউ অন্য কোনও কাজে মন দিয়েছেন। তবে সকলেই চাইছেন, দ্রুত কারখানার গেট খুলুক।
এদিন বৈঠকে জেলা আইএনটিটিইউসির সহ সভাপতি রাজিবুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বৈঠকের মাধ্যমে আশার আলো দেখা গিয়েছে। মন্ত্রীর তরফে আশ্বাস মিলেছে। অতিদ্রুত কারখানা পুনরায় চালুর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। শ্রমিকরা আবার কাজ ফিরে পাবেন। শুরু থেকেই বিধায়ক এবিষয়ে উদ্যোগী রয়েছেন। 
মালিপাড়ার বাসিন্দা কিশোর মালাকার ১৯৯৫ সাল থেকে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। আচমকা কাজ হারিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে বিধায়কের উদ্যোগে প্রতি মাসে ১৫০০টাকা করে ভাতা পাচ্ছি। তাতে কিছুটা সুরাহা হচ্ছে। সংসার চালাতে অন্য পেশা বেছে নিতে হয়েছে। তবে কারখানা খোলার অপেক্ষায় রয়েছি। মিনিস্টিলের বাসিন্দা সালামত আলি অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। কাজ হারিয়ে সংসারের হাল ধরতে তিনি টোটো চালান। তিনি বলেন, কারখানা চালু হলে আমরা উপকৃত হব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ