সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চিলাপাতায় নল রাজার ঐতিহাসিক গড়ের ধ্বংসাবশেষের সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজ হবে পূর্তদপ্তরকে দিয়ে। তার আগে যে কোনও সময় রাজ্য হেরিটেজ কমিশন গড়ের ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক তথ্য জানতে জেলায় আসতে পারে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার জেলা প্রশাসন আলিপুরদুয়ার হেরিটেজ সোসাইটির সঙ্গে বৈঠক করল। জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় বৈঠকটি হয়।
বৈঠকে ডিএম আর বিমলা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার হেরিটেজ সোসাইটির সভাপতি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল, সোসাইটির পেট্রন আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরিৎকুমার চৌধুরী, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান, বঙ্গরত্ন প্রাপক জেলার লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ প্রমুখ।
ডিএম বলেন, সোমবারের বৈঠকে জেলার ওই ঐতিহাসিক গড়ের ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান নিয়েই আলোচনা হয়েছে। গড়টি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের চিলাপাতা জঙ্গলের কোর এলাকায়। ফলে গড়ের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করতে হলে বনদপ্তরের সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। পূর্তদপ্তর এই সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কাজ করবে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার একটি বৈঠক করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার হেরিটেজ সোসাইটি জেলাজুড়ে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। হেরিটেজ ঘোষণা করে রাজ্য সরকারের কাছে সেই নিদর্শনগুলির উন্নয়নের প্রস্তাব দেবে আলিপুরদুয়ার হেরিটেজ সোসাইটি। যাতে জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি হারিয়ে না যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।
জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির মধ্যে নল রাজার গড় এখন ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। চিলাপাতার জঙ্গলের ভিতরে মাটিতে বসে গিয়েছে গড়টি। ফলে গড়ের উপরের সামান্য অংশই শুধু এখন দেখা যায়। সংরক্ষণের সঙ্গে পর্যটক টানতে ওই গড়কে কেন্দ্র করে বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল পর্যটনভিত্তিক উন্নয়নমূলক কাজের আর্জি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওই গড়ের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা জানান জেলা প্রশাসনকে। পূর্তদপ্তরকে গড়ের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে ডিপিআর তৈরির নির্দেশও দেয় কমিশন।
বিধায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ায় যে কোনও সময় রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের একটি দল জেলায় আসতে পারে। ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান সহ গড়টির নানা তথ্য জানতে চাইতে পারে কমিশন। গড় সংরক্ষণে বনদপ্তরের কী কী বিধিনিষেধ আছে, তাও জানতে চাইতে পারে। তারই যাবতীয় প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার প্রশাসনের সঙ্গে এই বৈঠক করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরিৎকুমার চৌধুরী বলেন, বৈঠকে ওই গড়ের নানা ঐতিহাসিক তথ্য ও দলিল দস্তাবেজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যাতে কমিশনের হাতে চট করে ওই গড়ের যাবতীয় তথ্য আমরা তুলে দিতে পারি, সেজন্য বৈঠক হয়েছে। জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যাতে ভবিষ্যতে গবেষণা করতে পারে তারই চেষ্টা করছি আমরা। নিজস্ব চিত্র।