নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করলেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। শনিবার আরামবাগে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। মন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ, বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়, অসীমা পাত্র, করবী মান্না, জেলাশাসক মুক্তা আর্য প্রমুখ। বৈঠকের পর মন্ত্রী বেচারামবাবু বলেন, প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ডিভিসি রাজ্যকে না জানিয়ে অপরিকল্পিতভাবে জল ছেড়েছে। এদিনও ছাড়া হয়েছে জল। তারফলে পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নদী বাঁধ নিয়ে চিন্তা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরামবাগের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তাঁর নির্দেশমতো এদিন আমরা প্রশাসনের সব বিভাগকে সমন্বয় করে বৈঠক করেছি। সবাইকেই সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বাসিন্দারা যাতে কোনও ধরনের অসুবিধায় না পড়েন আমরা তা নিশ্চিত করব।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে জানা যায়, ডিভিসি প্রায় ৭৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে। দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদী দিয়ে সেই জল যাচ্ছে। আরামবাগের হরিণখোলায় মুণ্ডেশ্বরী এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক বিপদসীমার নীচে রয়েছে। সেখানে জলস্তর রয়েছে ১০.২০মিটার। দামোদর চাঁপাডাঙায় রয়েছে ১০.৮০মিটার। সেখানেও বিপদসীমা এখনও ছোঁয়নি নদী। এছাড়া সকালে দ্বারকেশ্বরের জলস্তর ছিল ১৩.৮৩ মিটার। খানাকুলের বন্দরে রূপনারায়ণ প্রাথমিক বিপদসীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। সেখানে জলস্তর রয়েছে ৬.৯৩মিটার। রূপনারায়ণে প্রাথমিক বিপদসীমা ধরা হয় ৬. ৮৫মিটারে।
ডিভিসির ছাড়া জল দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী নদী দিয়ে বইছে। সেক্ষেত্রে জলস্তর আরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই জন্য নদীর বাঁধগুলি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গাতেই নদীবাঁধ দুর্বল হয়ে রয়েছে। কিছু জায়গায় বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে সেচদপ্তর। সেখানে এখনও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় জল ঢোকার আশঙ্কাও করছেন বাসিন্দারা। আজ, রবিবার মহকুমার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসতে পারেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি আরামবাগ ও খানাকুলে পরিস্থিতি দেখতে যেতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।