নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এক সময় হার্টের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া কিংবা পুরুলিয়ার বাসিন্দাদের কলকাতার বড় হাসপাতালে ছুটতে হতো। অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারতেন না। সেই ছবিটাই বদলে দিয়েছে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব। বর্তমানে ওড়িশার এআইআইএমএস থেকে কলকাতার মধ্যে সরকারি পরিসরে উন্নত ক্যাথল্যাব পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই হাসপাতাল। শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪ হাজারের বেশি মানুষের বিভিন্ন ধরনের হার্টের অপারেশন করে নজির গড়েছে হাসপাতাল। শুধু পেসমেকারই বসানো হয়েছে পাঁচশোরও বেশি রোগীর শরীরে।
গড়ে প্রায় ৫০০ জন রোগী বহির্বিভাগে হার্টের চিকিৎসার জন্য আসছেন। ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর বাড়ছে চাপ। পরিকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাথল্যাবের উদ্বোধন করেন। সেই দিন থেকেই জঙ্গলমহলের মানুষের জন্য হার্টের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই কেন্দ্র বহু জটিল রোগীর ভরসাস্থল হয়ে ওঠে। সরকারি হাসপাতালেই একেবারে বিনামূল্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এনজিওগ্রাফি, এনজিওপ্লাস্টি, পেসমেকার প্রতিস্থাপন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শুরু হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত এই ক্যাথল্যাবে ৪ হাজারেরও বেশি হার্টের রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগীর এনজিওগ্রাফি করা হয়েছে। হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার পরে ৯৩৩ জনের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ৫৮১ জনের টেম্পোরারি পেসমেকার এবং ৩৭৪ জনের শরীরে পার্মানেন্ট পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালেই প্রথমবার সফলভাবে ‘পিডিএ ডিভাইস ক্লোজার’-এর মতো জটিল হৃদ্যন্ত্রের চিকিৎসাও সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে রোগীরা এখানে আসছেন বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেতে। এমনকি প্রতিবেশী ওড়িশা থেকেও বহু রোগী যোগাযোগ করছেন। কলকাতার বাইরে সরকারি পরিসরে এত উন্নত হার্টের চিকিৎসার সুযোগ খুব কম থাকায় রোগীদের নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। তবে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে সমস্যার মুখেও পড়তে হচ্ছে হাসপাতালকে। একদিনে গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মলয় আচার্য বলেন, মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। বহু জটিল রোগীর সফল চিকিৎসা হয়েছে।
হাসপাতালের এমএসভিপি ইন্দ্রনীল সেন বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও একাধিক জেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী আসছেন। রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। সেই কারণে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং পরিকাঠামো বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তবেই ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দ্রুত ও উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।