Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

দেড় দশক পর ফের আইসিডিএস সেন্টার থেকে মিলবে ওষুধ, বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যে

এক সময় আইসিডিএস সেন্টার থেকে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যরক্ষায় দেওয়া হত ওষুধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ ছিল। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল মানুষকে।

দেড় দশক পর ফের আইসিডিএস সেন্টার থেকে মিলবে ওষুধ, বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যে
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এক সময় আইসিডিএস সেন্টার থেকে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যরক্ষায় দেওয়া হত ওষুধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ ছিল। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল মানুষকে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা উপেক্ষা করে রাজ্য সরকারের শিশু কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে আবারও চালু হচ্ছে বন্ধ হওয়া ওষুধ পরিষেবা। রাজ্যের প্রতিটি জেলাকে এনিয়ে নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত আইসিডিএস সেন্টারে দেওয়া হত প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ। ফলে শুধু শিশুরা নয় স্থানীয় মানুষও উপকৃত হতেন। সেন্টারে কর্মীদের কাছে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ নিতেন। প্রত্যন্ত গ্রামের ক্ষেত্রে এর সুফল ছিল ব্যাপক। কিন্তু সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের এই বিরতিতে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Advertisement

রাজ্যের শিশু কল্যাণ দপ্তর এই সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগী হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা না থাকলেও তারা নিজ উদ্যোগে কার্যক্রম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নতুন আইসিডিএস কর্মীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে দপ্তর। পুরোনো কর্মীরা আগে থেকেই প্রশিক্ষিত। কী কী ওষুধ মিলবে সেন্টার থেকে? তালিকায় রয়েছে জ্বর ও গায়ে ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ। ক্ষতস্থানের প্রতিষেধক হিসেবে আয়োডিন ক্রিম। ক্ষতস্থানে পরিষ্কার করে ওষুধ দেওয়ার জন্য কটন অ্যাবসরবেন্ট। থাকছে ব্যান্ডেজও। শিশু ও গর্ভবতীদের হাত ধোয়ার জন্য সাবান থাকবে কিটে। পেটের সমস্যার জন্য ওআরএস ও অ্যান্টাসিড লিকুইড ও জিঙ্ক সিরাপও থাকবে আইসিডিএসে। তাছাড়া সর্দিতে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত কোনও সমস্যা হলে নর্মাল স্যালাইন ন্যাসাল ড্রপ। এছাড়া মেডিকেল কিটের তালিকায় রয়েছে একটি থার্মোমিটার। ইতিমধ্যেই সেই তালিকা তৈরি করে রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্যদপ্তর।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশি মেডিকেল কিট যাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। সেখানে মোট ১১ হাজার ৩৬৪ টিকিট যাবে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১০ হাজার ৩৬৮টি, হাওড়ায় ৪ হাজার ৫০৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬ হাজার ৬৩৬টি, হুগলিতে ২ হাজার ৭০৮টি, কলকাতায় ১ হাজার ৫২৯, মুর্শিদাবাদে ৯ হাজার ৩৩টি কিট পৌঁছবে চলতি মাসেই। দপ্তরের এক কর্তার কথায়, কার্যক্রমের ফলে শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাবে। তাছাড়া এই কিট আইসিডিএস সেন্টারে থাকলে এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন। দত্তপুকুরের আইসিডিএস কর্মী শিখা পাল বলেন, আমি দীর্ঘদিন এই কাজ করি। হঠাৎ করে ২০১০ সালে ওষুধ আসা বন্ধ হয়ে যায়। তাই প্রথমের দিকে অভিভাবকদের অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। আবার নতুন করে তা চালু হওয়ার নোটিশ পেয়েছি। এনিয়ে বারাসত ২ সিডিপিও রাজশঙ্কর পান্ডের কথায়, এর ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হবে। আইসিডিএসে এসে মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পাবেন। এটা ২০১০ সাল থেকে বন্ধ হয়েছিল। আমরা আশা করি এতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নতি হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ