জয়পুর, ২৬ জুলাই: ফের বিজেপি শাসিত রাজ্যে আরও এক ছাত্রীর আত্মহত্যা! এবার রাজস্থানের উদয়পুরে এক ডাক্তারি পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে একটি সুইসাইড নোটও। তাতে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছেন কলেজেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ওই কলেজেরই এক কর্মী তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করত বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা। ওই ছাত্রীর আত্মহত্যার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করে, কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারী ডাক্তারি পড়ুয়ারা।
রাজস্থানের উদয়পুরের প্যাসিফিক ডেন্টাল কলেজে ঘটেছে ঘটনাটি। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ হস্টেলের রুমে দেখতে পান সহপাঠী। তখনই ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপর থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ডেন্টাল কলেজটিতে। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। মৃত ছাত্রীর ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। যাতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে একজন কলেজ কর্মীর বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, মানসিক ভাবে প্রায়শই ওই স্টাফ হেনস্তা করত, টাকা চাইত। বহু ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গেই সেই আচরণ করত। যারা টাকা দিতে পারত না তাঁদের পরীক্ষায় বসত দিত না। পুরোটাই কলেজ কর্তৃপক্ষ জানত। তাও কিছুই পদক্ষেপ নেয়নি।
পুলিস গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে ওড়িশার বালেশ্বরে এক সরকারি কলেজের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন এক পড়ুয়া। তারপরেই উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় এক মেডিক্যাল পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে আসে। সেখানেও কাঠগড়ায় তোলা হয় কলেজের কর্মীদের বিরুদ্ধে। দেশজুড়ে বিগত কয়েকদিনে যৌন বা মানসিক হেনস্তার জন্য আত্মহত্যা করেছেন একাধিক ছাত্রী। যার প্রায় সবটাই ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। যার ফলে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা।