Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর উপ নির্বাচনে কুড়মি ভোট নিয়ে আশাবাদী তৃণমূল ও বিজেপি

মেদিনীপুর উপ নির্বাচনে কুড়মি ভোট নিয়ে আশাবাদী তৃণমূল ও বিজেপি
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপনির্বাচন শেষ। ফলাফলের অপেক্ষায় শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষই। তবে মেদিনীপুর বিধানসভার উপ-নির্বাচনে প্রায় ২০ হাজার  কুড়মি ভোট নিয়ে আশাবাদী ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কোনও কাজ করেনি।  অপরদিকে বিজেপির দাবি, কুড়মি ভোট তাঁদের পক্ষেই যাবে। কারণ, কুড়মিদের দাবি দাওয়া পূরণে বিশেষ কোনও ভূমিকা পালন করতে পারেনি তৃণমূল। কুড়মি ভোট টানার জন্য শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। মেদিনীপুর বিধানসভার নিরিখে শালবনী ব্লকে সবচেয়ে বেশি কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। 
Advertisement
তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের ভোট আমাদের পক্ষেই থাকবে। কারণ, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের জন্য কী করেছে? গত নির্বাচনগুলিতে কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। বিজেপিকে আর কেউ পছন্দ করে না। কারণ তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে জানে। মানুষের পাশে থাকতে পারে না। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে থেকেই এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সহ একাধিক দাবিতে জোরকদমে আন্দোলন শুরু করে কুড়মি সমাজের মানুষ। দিন দিন আন্দোলনের ঝাঁঝও বাড়ে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কুড়মি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নির্দল প্রার্থীরা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন। জঙ্গলমহলে বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেন কুড়মিরা। তবে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দাবি দাওয়া পূরণে কোনও সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ফলে গত লোকসভা ভোটে কুড়মি সমাজের মানুষের ভোটের একটা বড় অংশ গিয়েছিল তৃণমূলের পক্ষে। মেদিনীপুর উপনির্বাচনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। 
জানা গিয়েছে, শালবনী ব্লকের বাঁকিবাধ, সাতপাটি, গড়মাল, কাশিজোড়া সহ বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কুড়মিদের প্রভাব রয়েছে। শালবনী ব্লকে ৮২টির মধ্যে ২৭টি বুথ এলাকায় কুড়মি সমাজের মানুষের বসবাস। অপরদিকে, মেদিনীপুর সদর ব্লকেও কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস লক্ষ করা যায়। তাই উপনির্বাচনে কুড়মি ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। 
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের বিজেপির প্রতি সমর্থন আছে। তার কারণ তাঁদের সঙ্গে রাজ্য সরকার বারবার প্রতারণা করেছে। ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষ আর তৃণমূলের সঙ্গে নেই। এবারের উপ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। 
কুড়মি সমাজের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাত বলেন, আমাদের কোনও প্রার্থী দেওয়া হয়নি। কোনও রাজনৈতিক দল আমাদের কাছে আবেদন করেনি। কেউ আবেদন করলে নিশ্চয়ই ভেবে দেখতাম। মানুষ স্বাধীনভাবেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল হয়েছে, কিন্তু কুড়মিদের ভাগ্যের বদল হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ