সংবাদদাতা, ইটাহার: হাজত থেকে বের হয়ে ফের মাদক কারবারে সক্রিয় হচ্ছে যুবকরা। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে পাচারের কাজে তারা টার্গেট করছে গ্রামের শিশুদের। এমন পরিস্থিতিতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এবার অন্যরকম উদ্যোগ ইটাহারের বিধিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের। একজোট হয়ে সালিশিতে মাদকাসক্ত কারবারিদের মুখোশ খুলছেন বিশিষ্টরা। মোটা অঙ্কের জরিমানা করার পর তাদের পাঠানো হচ্ছে হোমে।
Advertisement
ব্রাউন সুগার কারবারে বারবার উঠে এসেছে ইটাহারের আমপাড়া, বিধিবাড়ি ও গোঠলু গ্রামের নাম। জেলার মানচিত্রে কার্যত মাদকের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে এইসব এলাকা। টাকা ফেললেই সরাসরি এবং হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক। গত বছরে নেশায় আসক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ইটাহারের তিন যুবকের। পুলিস অভিযান চালালেও কারবারে লাগাম টানতে পারেনি। বাসিন্দাদের বক্তব্য, গ্রামের যুবসমাজ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ঘটি,বাটি বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করছে অনেকে। টাকা না পেলে বাবা, মা, স্ত্রী সহ পরিজনদের উপর অত্যাচারের ঘটনার কথা উঠে আসে বারবার। গ্রামের নাম এবং পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় এবার আর চুপ করে বসে থাকতে রাজি নন বিশিষ্টরা। গত চার বছর বিধিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা একজোট হয়ে মাদকের কারবার বন্ধ করতে মিটিং, মিছিল থেকে শুরু করে বিক্ষোভ, পথসভা সহ বিভিন্ন অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে দাবি রেজাবুল হুসেনের। ফলে গ্রামের বিশিষ্টরা বাসিন্দাদের নিয়ে সালিশি করে এই কারবার রুখতে উদ্যোগী হয়েছেন। এক বাসিন্দা মাজেদুর রহমান জানান, সালিশিতে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে মাদক কারবারিদের। পাশাপাশি যে ব্যক্তি কারবারিদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করছেন, তাঁদেরও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ী ও চিহ্নিতকারীকে নিয়ে সালিশি হয়। সেখানে শতাধিক বাসিন্দার উপস্থিতিতে দু’পক্ষের কথায় প্রমাণ হয় ওই ব্যক্তি কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। সতর্ক করা হয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের। আগেও দুই কারবারির বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বিধিবাড়ির বাসিন্দারা। এতে কারবার একেবারে নির্মূল না হলেও কিছুটা আয়ত্তে এসেছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। জরিমানার টাকা লাগানো হচ্ছে গ্রামের উন্নয়নের কাজে।
এবিষয়ে গ্রামের এক শিক্ষক জাকির হুসেন বলেন, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ উপহার দিতে এবং গ্রামের মাদক কারবারিদের মুখোশ খুলতে সকলের সহমতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইটাহার থানার পুলিস জানিয়েছে মাদকের কারবার বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চলছে।
এবিষয়ে গ্রামের এক শিক্ষক জাকির হুসেন বলেন, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ উপহার দিতে এবং গ্রামের মাদক কারবারিদের মুখোশ খুলতে সকলের সহমতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইটাহার থানার পুলিস জানিয়েছে মাদকের কারবার বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চলছে।



