অভিষেক পাল, বহরমপুর: এতদিন প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠত। এবার টাকার বিনিময়ে মিলছে ‘রেডিমেড’ উত্তরপত্র। টাকা দিলেই হাতে হাতে পাওয়া যাচ্ছে উত্তরপত্র। বহরমপুরে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষাতেই এই ঘটনা সামনে এসেছে। বহরমপুরের পাঁচটি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বুধবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। এই পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেই প্রশ্ন দেখে উত্তর লিখে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছিল পরীক্ষা কেন্দ্রে। একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে এক যুবক। পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম বসন্ত মণ্ডল। বহরমপুর থানার ভাকুড়ি হাই স্কুলে সে উত্তরপত্র বিক্রি করছিল। তার বাড়ি নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী গ্রামে। রবীন্দ্রমুক্ত বিদ্যালয়ের ইংরেজি পরীক্ষার ২২টি উত্তরপত্র এবং ২২০০ টাকা তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় রীতিমতো হতবাক পুলিস আধিকারিকরা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
জানা গিয়েছে, এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় ৪৭৩জন পরীক্ষার্থী রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ভাকুড়ি হাইস্কুলে ১০৯জন পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছে। পাশাপাশি চালতিয়া শ্রীগুরু পাঠশালায় ১০৫জন, বহরমপুর গার্লস মহাকালী পাঠশালায় ১২৮জন, মনীন্দ্রনগর হাই স্কুলে ১২৫ জন এবং বহরমপুর সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমে ছ’জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। মঙ্গলবার প্রথম ভাষার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হলেও দ্বিতীয়দিন ইংরেজি পরীক্ষার দিনই গোলযোগ বাধে। ভাকুড়ি হাই স্কুলের বাইরে উত্তরপত্র বিক্রি হচ্ছে বলে পুলিসের কাছে খবর আসে। তড়িঘড়ি পুলিস সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে থানায় তুলে নিয়ে আসে। থানায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে দোষ কবুল করে। পুলিস মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। জেরা চলাকালীন সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, এক ব্যক্তির কাছ থেকে সে এই প্রশ্ন পেয়েছিল। তারপর তার উত্তর তৈরি করে সে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছে। এক একটি উত্তরপত্র বিক্রি করে সে ভালোই অর্থ উপার্জন করেছে। কার কাছ থেকে সে প্রশ্ন পেয়েছিল, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অমরকুমার শীল বলেন, কীভাবে উত্তর বিক্রি হচ্ছে এব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। থানা থেকে পুলিসি প্রহরায় প্রশ্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে যায়। প্রশ্ন লিক হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এখন কীভাবে এটা করেছে, সেটা তো বলা মুশকিল।
ভাকুড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু দাস বলেন, স্কুলের গণ্ডির বাইরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এমন ঘটনা আমার কানে আসেনি। এবছর আমাদের বিদ্যালয়ে ১০৯জন পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছে। ৮৮ থেকে ৯০জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। ভালোভাবেই প্রতিদিন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষা কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন বিক্রি হয় শুনেছি। তবে প্রশ্ন দেখে উত্তর বিক্রি হওয়ার ঘটনা কোনও কালে শুনিনি। এমন হলে তো পরীক্ষা নেওয়ার কোনও মানেই হয় না।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। জেরা চলাকালীন সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, এক ব্যক্তির কাছ থেকে সে এই প্রশ্ন পেয়েছিল। তারপর তার উত্তর তৈরি করে সে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছে। এক একটি উত্তরপত্র বিক্রি করে সে ভালোই অর্থ উপার্জন করেছে। কার কাছ থেকে সে প্রশ্ন পেয়েছিল, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অমরকুমার শীল বলেন, কীভাবে উত্তর বিক্রি হচ্ছে এব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। থানা থেকে পুলিসি প্রহরায় প্রশ্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে যায়। প্রশ্ন লিক হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এখন কীভাবে এটা করেছে, সেটা তো বলা মুশকিল।
ভাকুড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু দাস বলেন, স্কুলের গণ্ডির বাইরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এমন ঘটনা আমার কানে আসেনি। এবছর আমাদের বিদ্যালয়ে ১০৯জন পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছে। ৮৮ থেকে ৯০জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। ভালোভাবেই প্রতিদিন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষা কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন বিক্রি হয় শুনেছি। তবে প্রশ্ন দেখে উত্তর বিক্রি হওয়ার ঘটনা কোনও কালে শুনিনি। এমন হলে তো পরীক্ষা নেওয়ার কোনও মানেই হয় না।



