Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাফিয়া-গ্রাসে মেয়রের জেঠিমার জমি! চাঞ্চল্য, সালানপুরে দেড়বিঘা জমি অন্যের নামে রেকর্ড

অশীতিপর যুথিকা উপাধ্যায়ের শরীর বয়সের ভারে দুর্বল। অল্প বয়সে বিধবা হয়েছেন। সন্তান নেই।

মাফিয়া-গ্রাসে মেয়রের জেঠিমার জমি! চাঞ্চল্য, সালানপুরে দেড়বিঘা জমি অন্যের নামে রেকর্ড
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সালানপুর: অশীতিপর যুথিকা উপাধ্যায়ের শরীর বয়সের ভারে দুর্বল। অল্প বয়সে বিধবা হয়েছেন। সন্তান নেই। এই বিধবারই জমি লুটের অভিযোগ উঠেছে সালানপুরে। অভিযোগ, সালানপুর ব্লকের কল্ল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশরডিতে তাঁর নামে থাকা প্রায় দেড় বিঘা জমির রেকর্ড বদল হয়ে গিয়েছে। যুথিকা দেবী বৃদ্ধা, নিঃসন্তান হলেও অসহায় নন। তিনি অতি প্রভাবশালী। তিনি আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের জেঠিমা। যে বিধানসভা এলাকায় এই জমি লুটের অভিযোগ, সেই বারাবনির বিধায়কও বিধানবাবু। এতো গেল শ্বশুরবাড়ির প্রভাব। যুথিকা দেবীর বাপের বাড়িও কম প্রভাবশালী নয়। তাঁর ভাইপো সালানপুর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি।

Advertisement

এহেন প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপত্তি থাকা পরিবারের বৃদ্ধার জমি লুটের অভিযোগে সালানপুর ব্লকজুড়ে শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ, জমি হাঙররা এতটাই বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে যে, বিধায়কের জেঠিমার জমিও লুট করতে পিছপা হচ্ছে না। 
জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগটির তদন্ত করতে বিএল অ্যাণ্ড এলআরওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করছেন। 
বারাবনি, সালানপুর এলাকায় বাম আমলেও দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন কংগ্রেসের মানিক উপাধ্যায়। তিনি বিধায়কও হয়েছিলেন বাম আমলেই। তাঁর দাদার সঙ্গেই বিয়ে হয়েছিল সালানপুরের কল্ল্যা পঞ্চায়েতের মিশ্র পরিবারের মেয়ে যুথিকার। যদিও অল্প বয়সেরই তাঁর স্বামী ভোলানাথ উপাধ্যায় মারা যান। বিধবা মেয়েকে কেশডি মৌজায় নিজের জমি দান করেন তাঁর বাবা। বিপুল প্রভাব ও সম্পত্তির মালিক হওয়ায় এই জমি নিয়ে কারও মাথাব্যথাও ছিল না। পরবর্তীকালে যুথিকা দেবী বাপের বাড়িতে চলে আসেন। নিজের জমি নিয়ে কোনো উদ্বেগ ছিল না। মানিক উপাধ্যায়ের স্ত্রীর জমি যে লুট করার সাহস দেখাবে কেউ, তা স্বপ্নেও ভাবনি সালানপুরবাসী। কিন্তু সেই ঘটনাই ঘটেছে বলে অভিযোগ। সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র বলেন, কেশডির মৌজার প্রায় সব জমিই ইসিএল অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তখনই ঩পিসিমার জমির রেকর্ড খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখি সেই জমি খাতায় কলমে অন্য নামে রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। আমাদের দখলে থাকা আমাদের জমি অন্য কেউ নিয়ে নেবে ভাবতেও পারিনি। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি প্রথমে দেখানো হয়েছে পিসিমা জমিটি কল্ল্যা ট্রাস্টি বোর্ডকে দিয়েছেন। তেমন কোনো ট্রাস্টি বোর্ডই ছিল না। তারপর সেই জমিটি আবার ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে যুথিকা দেবীকে। সেখানে যুথিকা উপাধ্যায়কে ফেরত না দিয়ে দেওয়া হয়েছে যুথিকা মণ্ডলকে। তিনি আবার জমিটি অন্য একজনকে বিক্রি করেছেন। এভাবে খাতায় কলমে জমিটির একাধিক হাত বদল হয়েছে। যা পিসিমা বা আমরা কেউ জানিই না, বলে তিনি অভিযোগ করেন। লোকের জমি হরণ করে তা অন্যকে বিক্রি করে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনেকের জমিই এই ভাবে নাম পাল্টে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আমরা এর শেষ দেখতে চা‌ই। 
বিজেপি জেলা সহ সভাপতি তাপস রায় বলেন, লোককে গর্তে ফেলতে গেলে নিজেদেরই গর্তে পড়তে হয়। এতদিন তৃণমূল নেতারা লোকের জমি লুট করেছে। বাকি, কয়লা, পাথর থেকে টাকা লুট করেছে। এবার নিজের পরিবারের জমিও রক্ষা পাচ্ছে না। আগুন নিয়ে খেলতে নেই।
সালানপুরের বিএলআরও সুমন সরকার বলেন, জমি হস্তান্তারের যে বিষয়গুলি সামনে আসছে তা বহু বছর আগে হয়েছে। ওঁরা বিষয়টি আগে দেখেননি। আমি দু’ পক্ষকে নিয়ে শুনানি করেছি। আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি জেঠিমা আমাকে এখনও জানাননি। জানালে প্রশাসনকে পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করব।  মেয়রের জেঠিমা যুথিকা উপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ