সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির এটিএম লুট কাণ্ডে দোমোহনি থেকে উদ্ধার হল দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করা বেশকিছু সামগ্রী। ধৃত আসলুপ খান, সামশের খান, ইরফান খান ও নরেশ কোহলিকে মঙ্গলবার নিয়ে আসা হয়েছিল বোলবাড়িতে। সেখানেই দুষ্কৃতীদের দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ময়নাগুড়ি থানার পুলিস। অভিযুক্তরা এটিএম লুট করে কোন রাস্তা দিয়ে গিয়েছিল, কী কী সামগ্রী ব্যবহার করেছিল, অপারেশনের পর সেসব কোথায় ফেলে দিয়েছিল, সবকিছুই ধৃতরা পুলিসকে জানায়।
মঙ্গলবার পুনর্নির্মাণ চলাকালীন দোমোহনি মোড়ের দিকে যাওয়ার রাস্তার ধারে জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় অক্সিজেন সিলিন্ডার, গ্যাস সিলিন্ডার, রেগুলেটর যুক্ত পাইপ এবং এটিএমের টাকার ট্রে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা অপারেশন চালানোর জন্য ভিনরাজ্য থেকে ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনেছিল। এদিকে, পুলিস লুটের ঘটনায় দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার করেছিল গ্যাস কাটার, পুলিসের ক্যাপ সহ গাড়ির বেশকিছু নম্বর প্লেট।
গত ১৩ জুন ময়নাগুড়ির বোলবাড়ির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম কেটে টাকা লুট করে দুষ্কৃতীরা বৈকণ্ঠপুর জঙ্গলে আত্মগোপন করে। এরপর জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস, শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস, বনদপ্তর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গজলডোবা থেকে দুই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় একজন এবং পরে আরও একজন ধরা পড়ে। যদিও পুলিসের দাবি, এটিএম লুটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আরও এক দুষ্কৃতীকে এখনও পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এখনও পর্যন্ত ৭৫টির বেশি এটিএম লুটের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দিল্লি পুলিসের সাসপেন্ড হওয়া কর্মী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানা থেকে টিম এসে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গিয়েছে। উঠে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য।
ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত চারজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে এটিএম লুটের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ধৃতদের কথা মতো দোমোহনির রাস্তার পাশে জঙ্গল থেকে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। নিজস্ব চিত্র।