Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো ওয়েবসাইটে মায়াপুর ইসকনে ঘর বুকিংয়ে সক্রিয় প্রতারণা চক্র

সাইবার প্রতারকদের নজর পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসকনের উপর। সেখানে ঘর বুকিংয়ের নামে সক্রিয় হয়েছে সাইবার প্রতারণা চক্র।

ভুয়ো ওয়েবসাইটে মায়াপুর ইসকনে ঘর বুকিংয়ে সক্রিয় প্রতারণা চক্র
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সাইবার প্রতারকদের নজর পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসকনের উপর। সেখানে ঘর বুকিংয়ের নামে সক্রিয় হয়েছে সাইবার প্রতারণা চক্র। ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে দেশ-বিদেশের ভক্ত এবং পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যটকদের কাছে ভুয়ো রসিদ পাঠাচ্ছে প্রতারকরা। ফলে নির্দিষ্ট দিনে মায়াপুরে পৌঁছে চরম বিপাকে পড়ছেন ভক্তরা। কৃষ্ণনগর সাইবার থানায় এই নিয়ে অভিযোগও জমা পড়েছে। সম্প্রতি ইন্দোরের এক বাসিন্দা মায়াপুর ভ্রমণে এসে এমনই প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। তারপরই বিষয়টি সামনে আসে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, এরকম অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করছি। ভুয়ো ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা প্রথমে ইসকনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নকশা এবং ডোমেইন নামের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। সেই ওয়েবসাইটে সার্চ করলে একদম প্রথম দিকেই আসে। স্বাভাবিকভাবেই লোকজন সেই ভুয়ো ওয়েবসাইটকেই ইসকনের আসল ওয়েবসাইট ভেবে ঘর বুক করছেন। বুকিংয়ের সময়ে অনলাইন পেমেন্টের জন্য বিভিন্ন কিউআর কোড, ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর পর্যটকদের কাছে একটি ‘বুকিং কনফার্মেশন’ রসিদ ই-মেল বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। এমনকী ফোন নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে রি-ভেরিফিকেশনও করায় প্রতারকরা। ভক্তরাও নিশ্চিত হন যে, তাঁদের বুকিং কনফার্ম হয়েছে। কিন্তু মায়াপুরে পৌঁছনোর পর তাঁরা বুঝতে পারেন যে, সেই বুকিং রেকর্ড ইসকনের ডেটাবেসেই নেই। 
পুলিস আধিকারিকদের ধারণা, ইস্কনের ওয়েবসাইটটি সিকিউরিটির দিক থেকে দুর্বল হওয়ার কারণেই প্রতারকরা অ্যাকসেস পেয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো সম্ভব হচ্ছে। তাড়াতাড়ি ভুয়ো ওয়েবসাইট ও আসল ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য একদম নেই বললেই চলে। 
এক পর্যটকের কথায়, আমরা পরিবার নিয়ে মায়াপুরে থাকার জন্য অনলাইনে ঘর বুক করেছিলাম। কিন্তু মায়াপুরে পৌঁছে দেখি, আমাদের নামে কোনও বুকিং নেই। তখন বুঝতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি।
বিষয়টি জানার পর ইসকনের তরফ থেকেও সাইবার থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার সাইবার ক্রাইম সেল তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতারণার চক্রটি বাইরের রাজ্য থেকে চালানো হতে পারে। প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পেমেন্ট গেটওয়ে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারকরা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ওয়েবসাইটের প্রচার চালায়। ফলে কেউ গুগলে মায়াপুরে ঘর বুকিং করার সার্চ করলে ভুয়ো ওয়েবসাইটটিই প্রথম দিকে দেখায়।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই ঘর বুকিং করতে হবে। তার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে প্রথমে দেখা ওয়েবসাইটে ভরসা না করে ডোমেইনটি ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। বুকিং সংক্রান্ত প্রতারণা হলে দ্রুত সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানাতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ