Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় সহ বারবার গেরুয়া শিবিরের টার্গেটে মতুয়ারা, এসআইআর ইশ্যুতে পাশে দাঁড়িয়ে বাজিমাত তৃণমূলের

দুর্দিনে পাশে থেকে মতুয়াদের মন জয় করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে বাধ্য হওয়া পরিবারগুলিকে বারবার হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে

আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় সহ বারবার গেরুয়া শিবিরের টার্গেটে মতুয়ারা, এসআইআর ইশ্যুতে পাশে দাঁড়িয়ে বাজিমাত তৃণমূলের
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল,বর্ধমান: দুর্দিনে পাশে থেকে মতুয়াদের মন জয় করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে বাধ্য হওয়া পরিবারগুলিকে বারবার হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। এসআইআরে পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন মতুয়ারা। ২০২২সালের পরও অনেকেই বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে এসেছিলেন। তাঁরা পঞ্চায়ত বা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পেয়েছেন। অথচ এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা বৈধ ভোট নয়। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ওই পরিবারগুলির আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে সমস্যায় ফেলেছিল। জামালপুর, পূর্বস্থলী, আউশগ্রামে অনেকের আধার কার্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের রাতের ঘুম চলে গিয়েছিল। সেবারও পাশে দাঁড়িয়েছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি দেন, কারও কোনও সরকারি পরিষেবা বন্ধ হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। অবশেষে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে। এসআইআর পর্বে তৃণমূল মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে। 

Advertisement

জৌগ্রাম স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল জিতেন সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বারবার কেন বিজেপি আমাদের টার্গেট করছে বুঝতে পারছি না। আমরা কেউই স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ ছেড়ে আসিনি। বাধ্য হয়েই এপারে এসেছি। মতুয়াদের অনেকেই বিজেপিকে সমর্থন করত। এখন তারাই আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। জামালপুরের ঝাপানডাঙা গ্রামের এক গৃহবধূ বলেন, এক বছর আগে হঠাৎ করেই আমার আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের এভাবে অপমান করার কোনও যুক্তি নেই। ২০০২সালের ভোটার তালিকায় আমার বা স্বামীর নাম নেই। বিজেপি বলছে আমরা বৈধ ভোটার নয়। তাহলে আগের নির্বাচনগুলিতে আমরা ভোট দিলাম কীভাবে?
এসআইআর ইশ্যুতে বিজেপি চাপে পড়ে যাওয়ায় তারা এখন নাগরিকত্বকে ঢাল করছে। বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করেছে। কিন্তু কোথাও তারা সাড়া পাচ্ছে না। দলের কর্মীরা ছাড়া কেউই বিজেপির ক্যাম্পে নাগরিকত্বের জন্য ভিড় করছে না। তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ বলেন, অনেকে বাংলাদেশ থেকে কোনওকিছু আনতে পারেননি। তাঁরা বাধ্য হয়ে এপারে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এরাজ্যে রয়েছেন। রাজ্য সরকার তাঁদের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। এখন বিজেপি বলছে ওঁরা নাগরিক নয়। এর জবাব বিধানসভা নির্বাচনে ওরা পাবে। যদিও বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, মতুয়াদের পাশে আমরাই থাকি। তাঁদের নাগরিকত্বের দাবি আমরা বহুদিন ধরে জানিয়ে এসেছি। তাঁদের ভয়ের কারণ নেই। তৃণমূল মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এসআইআর ইশ্যুতে তৃণমূল মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে কালনা, পূর্বস্থলী, মেমারির মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি ভালো ভোট পেয়েছিল। কিন্তু এসআইআর ইশ্যুতে ওই এলাকার বাসিন্দারা গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন। কারণ তাঁদের অনেকেরই আত্মীয়দের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করতে তাঁদের নাজেহাল হতে হচ্ছে। তৃণমূলের বিএলএরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে তাঁদের আশ্বস্ত করছেন। কোথাও বিজেপি নেতাদের দেখা যাচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ