নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চারে চারে আট করতেও হোঁচট খাচ্ছে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা। জটিল অঙ্ক কষা তো অনেক দূরের বিষয়। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে সমীক্ষা চালিয়ে এমনই গাফিলতি চোখে পড়েছে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের। সেই কারণে এবার ‘অঙ্কের অভিযানে’ নামছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের অঙ্কে আরও বেশি দক্ষ করতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। কীভাবে সহজে অঙ্ক শেখা যাবে, সেই ব্যাপারে টিপস দেওয়া হবে। যেসমস্ত পড়ুয়া অঙ্কে দুর্বল, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাল অত্যন্ত সঙ্গীন। পড়ুয়াদের অনেকেই নিমিত স্কুলে আসে না। যেসব অঙ্ক প্রথম শ্রেণিতে শেখা উচিত, সেটা তারা চতুর্থ শ্রেণিতেও শিখতে পারছে না। অনেকেই নামতা জানে না। এই সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা উঁচু ক্লাসে ওঠার পর বিপাকে পড়ছে। প্রাথমিকেই যাতে তাদের অঙ্কের ভিত মজবুত করা যায়, সেই কারণে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অঙ্ক শেখানোর জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে বিশেষ ‘টিম’ তৈরি করা হবে। তাঁরা সহজ পদ্ধতিতে অঙ্ক শেখাবেন। শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে গিয়েছে। বিশেষ করে শহরের স্কুলগুলির হাল খারাপ। বহু স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০-র নীচে নেমে গিয়েছে। অথচ, ওই স্কুলগুলিতে তিন থেকে চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ওই স্কুলগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকেরই শহরের স্কুলে আসার প্রবণতা রয়েছে। গ্রামীণ স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্কট দেখা দিলেও শহরের ছবিটা অন্যরকম। অথচ, শহরের স্কুলগুলিতেও পড়াশোনার মান উন্নত হচ্ছে না। এটা দুর্ভাগ্যের। এমনও দেখা গিয়েছে, চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা সাধারণ অঙ্কের সমাধানও করতে পারছে না। তিনের সঙ্গে তিন গুণ করলে কত হয়, বা পাঁচের সঙ্গে পাঁচ যোগ করলে তার ফল কী হতে পারে, সেটাও অনেকের জানা নেই।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ‘অঙ্কের অভিযান’ শেষ হওয়ার পর ইংরেজি শিক্ষা নিয়ে জোর দেওয়া হবে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা হামেশাই বৈঠক করছেন। নতুন পদ্ধতিতে কীভাবে পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়া যাবে, সেটা বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে নিয়মিত স্কুলে আসে, তার জন্য বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। বহু পড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণির আগেই ড্রপআউট হচ্ছে। ওই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত ক্লাস করলে অঙ্কের ভীতি কেটে যাবে বলে শিক্ষক-শিক্ষিকদের দাবি। তাঁরা বলেন, অঙ্ক শেখার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহা রয়েছে। ক্লাসে পড়ুয়ারা মনোযোগ দেয় না। তার ফলস্বরূপ চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা ‘চারে চারে আট’ করতে পারছে না।