Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রসূতি মৃত্যুর হার কমল উত্তর দিনাজপুরে

ধারাবাহিক তৎপরতায় প্রসূতি মৃত্যুর হার কমল উত্তর দিনাজপুর জেলায়। গত কয়েক বছরে প্রসূতি মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম।

প্রসূতি মৃত্যুর হার কমল উত্তর দিনাজপুরে
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: ধারাবাহিক তৎপরতায় প্রসূতি মৃত্যুর হার কমল উত্তর দিনাজপুর জেলায়। গত কয়েক বছরে প্রসূতি মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ১ এপ্রিল থেকে নতুন বছরের এখনও পর্যন্ত ১২ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩২ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। ২৫ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩৩ জন, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৪৪ জন প্রসূতি মারা যান। অর্থাৎ বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রসূতি মৃত্যুর হার জেলায় সর্বনিম্ন। বিষয়টিতে একদিকে যেমন উৎসাহিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। তেমনই এই মৃত্যুর হার আগামীতে আরও কমাতে, সাফল্য ধরে রাখতে উদ্যোগী স্বাস্থ্যদপ্তর।

Advertisement

উত্তর দিনাজপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রসূতি মৃত্যুর হার জেলায় সবথেকে কম। সেই সংখ্যা নেমে হয়েছে ১২। স্বাস্থ্যদপ্তর লাগাতার আশাকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে প্রসূতিদের খোঁজখবর রাখা, প্রসূতিদের রক্তাল্পতা ও তার প্রভাব কাটাতে চিকিৎসা সহ নতুন নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়াতেই এই সাফল্য এসেছে। আগামীতে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামানোর লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রসূতি মৃত্যু কমাতে প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক, হাসপাতালগুলির সুপার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন হয়। সেখানে প্রসূতি মৃত্যু প্রতিরোধে করণীয় পন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এব্যাপারে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রসূতি মৃত্যু হয় মূলত প্রসূতিদের মধ্যে রক্তাল্পতা ও তার প্রভাব। হাইপারটেনশন ও তার জটিলতা এবং সংক্রমণের মতো তিনটি কারণে। তাই একজন প্রসূতি অবস্থায় প্রথমবার হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে এলেই তা স্বাস্থ্যদপ্তরের নজরে আসে। এছাড়াও আশা কর্মীরা এব্যাপারে স্বাস্থ্যদপ্তরে এই তথ্য পৌঁছে দেন। তারপর থেকেই প্রসূতি অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়। রক্তাল্পতা, হাইপারটেনশন ও সংক্রমণ চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়। এরপর প্রসূতির মধ্যে যে ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়, তার জন্য চিকিৎসা শুরু হয়। এছাড়াও প্রসূতিদের  নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, বাড়িতে প্রসব প্রতিরোধ, প্রসূতিতেদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার মতো নানা পদক্ষেপ শুরু হয়। এনিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর জেলা প্রশাসনের রিভিউ বৈঠক আর রকমারি ব্যবস্থাপনাতেই প্রসূতি মৃত্যু রুখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ